চর্বিত চর্বণ আজ্ঞাবহ নয়া নির্বাচন কমিশন! -মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ঘোষিত নয়া নির্বাচন কমিশন গঠন এখন টক অব দ্য কান্ট্রি! সর্বত্রই আগামী নির্বাচনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত নয়া নির্বাচন কমিশন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। যে যার মতো করে নির্বাচন কমিশনারদের অতীতের কাসুন্দি ঘাঁটছেন। তবে সব কথার মূল কথা হলোÑ সবার প্রত্যাশা দেশ যেন অমানিশার কালো মেঘের দস্যুতা থেকে রেহায় পায়। শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হোক এবং দেশে গণতন্ত্র ও নাগরিকদের ন্যূনতম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত হোক। এই ন্যূনতম নাগরিক প্রত্যাশার কারণ হলো ইতঃপূর্বে দলীয় মোড়কে নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশন দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ দিতে পারেনি। দলীয় লেজুড়বৃত্তির কারণে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সংবিধানকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে, যা গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় অকল্পনীয়। এবারও নয়া নির্বাচন কমিশন গঠনপ্রক্রিয়া দেখে মনে হয় দেশ আবারো একটি গভীর সঙ্কটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি অনভিপ্রেত।
ইতোমধ্যেই সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সরকারবিরোধীরা সার্চ কমিটিতে সরকারদলীয় ব্যক্তি নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। অপরদিকে সার্চ কমিটি গঠনকেও অসাংবিধানিক বলে দাবি করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়াও সার্চ কমিটির একজন সদস্যের বক্তব্যে বোঝা যায় যে এই কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ আওয়ামী মতাদর্শী। সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরিন আক্তার মনোনীত হবার পর একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে টেলিফোনে বলেছেন, ‘আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব, পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করি। এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন, তা পবিত্র দায়িত্ব মনে করে পালনে সচেষ্ট হবো।’ এতে সহজে অনুমিত হয় যে সার্চ কমিটি কতটুকু নিরপেক্ষ ও নির্দলীয়! এরপর ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের কাছে সম্ভাব্য ৫ জনের নাম চেয়েছিল সার্চ কমিটি। ৩১ জানুয়ারি ২০১৭ বেলা ১১টার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের কাছে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আমন্ত্রিত সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত সদস্যদের নাম জমা দিতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিরোধী দলগুলো কমিশনে প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের নাম দিলেও সরকারি দলের লোকদের পছন্দের লোকেরা কমিশনে স্থান পায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সার্চ কমিটির পক্ষ থেকে খোলাসা করা হয়নি যে, কোন দল কোন কোন ব্যক্তির নামের প্রস্তাব করেছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে সার্চ কমিটির বৈঠকে যেসব ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের মূল্যবান প্রস্তাব করা হয়েছিল তাদের নাম প্রকাশ করা হলে হয়ত দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণ তাদের সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারতেন ও মতামত প্রকাশের সুযোগ পেতেন। ফলে একটি দলনিরপেক্ষ কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন সম্ভব হতো। কিন্তু তা না করে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে এটাই প্রমাণ করা হলো যে, বর্তমান সরকার দেশের জনগণের মতামত ও রায়ের কোনো তোয়াক্কাই করে না। মিডিয়ার কল্যাণে জনগণ প্রত্যেক দলের প্রস্তাবিত সদস্যদের নামের তালিকা একটু-আধটু করে জানতে পেরেছে। এতে দেখা যায় যে, সার্চ কমিটি আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিত তালিকা থেকে ৪ জন ও বিএনপি প্রস্তাবিত তালিকা থেকে ১ জনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। যদিওবা অনেক দল ইতোমধ্যে অভিযোগ তুলেছে সার্চ কমিটি প্রস্তাবিত তালিকা থেকে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়নি বরং এ কমিশন গঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগের ইচ্ছায়। তাদের মতে সরকারের ইচ্ছামতই যদি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে অর্থহীন সংলাপের কী প্রয়োজন ছিল? এদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য  মো: নাসিম দাবি করছেন বিএনপি জোট এই কমিশনকে না মানার কথা বলা এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল।
নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনাব খান মোহাম্মদ নূরুল হুদা নিজে থেকেই ইতোমধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। বিএনপি অভিযোগ তুলেছে নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনতার মঞ্চের সংগঠক ছিলেন। বিএনপির এমন দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দেয়া প্রশ্নের উত্তরে নয়া সিইসি বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা ছিলাম, জনতার মঞ্চে ছিলাম না।’ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন যে, ‘তিনি ছাত্রজীবনে ফজলুল হক হল ছাত্র ইউনিয়নে ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত নাট্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন।’ ওনার এমন বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীলসমাজের কেউ কেউ বলেন, তার পক্ষে কিভাবে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব? যিনি একটি দলের কখন কী ছিলেন তা নিয়ে সাফাই গাইছেন?
বিভিন্ন মারফতে জানা গেছে সিইসি নুরুল হুদা ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হল সংসদে ছাত্রলীগ থেকে নাট্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত ছিলেন। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ অবসরের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের এমডি হন। তবে সুশীলসমাজের অনেকে মনে করেন তার পরিচয় পূর্বে যাই থাকুক না কেন এখন তার ওপর জাতির বড় একটি দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এখন তার উচিত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
এদিকে বিদায়ী সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন গত ২২ জানুয়ারি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ‘পরবর্তী নির্বাচন কমিশনও আমাদের মতোই হবে’ মর্মে বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেছিলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশে সুবাতাস বইছে। পরবর্তীতে যে নির্বাচন কমিশন আসবে তারা আমাদের মতো হবে।’ (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর ২২ জানুয়ারি ’১৭) রকিব সাহেব অযথা এমন বাগাড়ম্বর পজেটিভ সেন্সে আওড়ালেও ওনার আমলেই দেশের নির্বাচন কাঠামো ভেঙে খান খান হয়েছে। ওনার আমলেই ৫ জানুয়ারি, ২০১৪ সালে জনধিক্কৃত ও বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, যেসব সংসদ সদস্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে স্ব স্ব এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতাও রাখেন না। ভোটারবিহীন এই নির্বাচনে আজগুবি ও ভুতুড়ে পার্সেন্টেজ ভোটকাস্টিং দেখানো হয়েছিল। কোন কোন ভোটকেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই ভোট দেয়া শেষ হয়ে গিয়েছিল! যে নির্বাচনে মৃতব্যক্তিরাও ভোটার হিসেবে ভোট প্রদান করেন বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছিল! আবার যিনি নির্বাচনী প্রার্থী তিনি ভোট দেবার আগে অন্য কেউ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করার মতো নজিরবিহীন ঘৃণ্য ঘটনাও ঘটেছে! হোয়াট এ সেলুকাস! এমন নির্বাচন ব্যবস্থার নামে তামাশা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে আদৌ ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই। যার নীলনকশার নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশে প্রথম গৃহপালিত বিরোধী দলের ঘৃণ্য আবির্ভাব ঘটে। যে নির্বাচন বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। তার সময়ে নির্বাচনকে ঘিরে কত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে তার ইয়ত্তা নেই। রকিবউদ্দিন কমিশন প্রতিটি নির্বাচনের পরেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করতেন। অথচ কী পরিমাণে ভোটকেন্দ্রে রক্তারক্তি ও ভোট ডাকাতির মহোৎসব ঘটেছে তা সচেতন নাগরিক মাত্রই জানেন। রকিব কমিশন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ইতিহাস এই বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনকে কখনো ক্ষমা করবে না। তিনি তার আমলে কথিত সংঘটিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মতোই নয়া নির্বাচন কমিশনকে দেখতে চেয়েছেন! এ যেন চর্বিত চর্বণ আজ্ঞাবহ নয়া নির্বাচন কমিশন!
নয়া নির্বাচন কমিশন গঠনের পর বিভিন্ন দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সার্চ কমিটির সুপারিশ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের ৫ জন সদস্যকে বেছে নেয়ার একদিন পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বলছে তারা ‘নিরাশ ও হতাশ হয়েছে’। ৮ জানুয়ারি রাতে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিশ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে আনুষ্ঠানিক এই প্রতিক্রিয়ায় জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। (সূত্র : ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিবিসি বাংলা)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান ‘নতুন নির্বাচন কমিশন’ সম্পর্কে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জনাব খান মোহাম্মদ নূরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে তাতে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। (সূত্র : জামায়াত-ওয়েবসাইট ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)
এদিকে প্রেসিডেন্ট গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশন জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। নতুন নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সার্চ কমিটির প্রস্তাবের আলোকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজন নির্বাচন কমিশনারের নাম প্রকাশের পরদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, বিএনপি এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে আমি নিশ্চিত। (সূত্র : দৈনিক ইনকিলাব, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ মহামান্য রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হবে মত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৫ জনকে নিয়ে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে এ কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের আস্থা অর্জন করা। তাদের সামনে আগামী দিনে সুষ্ঠুু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে অগ্নিপরীক্ষা আসছে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে এখন থেকেই তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপিসহ যে দলই মন্তব্য করুক না কেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হবে। এ নিয়ে কোনো ভিন্নমত থাকার কোনো কারণ নেই। (সূত্র : মানবজমিন ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)
এদিকে বিএনপি বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত সাবেক ঢাবি ভিসি ড. এমাজউদ্দীনের বক্তব্যের সুর হঠাৎ পাল্টে যাওয়ায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন। অনেকে বলছেন তাহলে বিএনপি কি আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতায় যাচ্ছে?
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, কে এম নুরুল হুদার মাঝে এমনকি যোগ্যতা ছিল যা দেখে তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানো হয়েছে? কে এম নুরুল হুদাকে বিএনপি প্রথমবার ক্ষমতায় এসে তাকে দুইবার ডিসি করেছে। আর দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে তাকে ওএসডি করেছে। যদি জনতার মঞ্চের সাথে তার কোনো সম্পর্ক না থাকত তাহলে বিএনপি কেন তাকে ওএসডি করতে যাবে? বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭) রাতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির আজকের বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে তিনি এই রকম মন্তব্য করেন।
মূলত যারা একটি দলনিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারেন না, তাদের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে বিতর্ক ও হ-য-ব-র-ল সৃষ্টি হয়েছে এতে নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকারের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা আবারো প্রমাণিত হলো। নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকার গঠনের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে যারা দেশবাসীকে ‘সাত পাঁচ চৌদ্দ’ যোগফল শিক্ষণের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন তারা মূলত চোরাপথে হিটলারীয় কায়দায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকতে চায়। নচেৎ তাদের নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকার গঠনে অন্তরায় কোথায়?
লেখক : কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক