post

কুরবানি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি

মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক

২৪ এপ্রিল ২০২৩

হিজরি বর্ষের দ্বাদশ এবং সর্বশেষ মাস জিলহজ। মুসলিম উম্মাহর নিকট এ মাসটি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ মাসেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অদম্য বাসনা নিয়ে সারা বিশ্বের সক্ষম ও সামর্থ্যবান মুসলমানেরা পবিত্র হজব্রত পালন করেন। শুধু তাই নয়; এ মাসে রয়েছে ইসলামের আরো দু’টি শাশ্বত বিধান তথা কুরবানি ও ঈদুল আজহা। যা মুসলিম উম্মাহর মাঝে তাকওয়ার অনুভূতি জাগ্রত করে, আর ঈমানী স্পৃহাকে করে অধিকতর শাণিত। সর্বোপরি কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং ইসলামের অন্যতম ঐতিহ্য। ঈদুল আজহা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু  কুরবানি দেওয়ার পবিত্র উৎসব। আল্লাহ তায়ালার  নৈকট্য, আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, সাম্য, মৈত্রী, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সুমহান মহিমায় ভাস্বর কুরবানি। কুরবানি আমাদের আদি পিতা আদম (আ) ও তদীয় পুত্র হাবিল-কাবিল এবং মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ) ও তদীয় পুত্র ইসমাঈল (আ)-এর সুমহান আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা-ভরসা ও জীবনের সর্বস্ব সমর্পণের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমন্বয়।  

 

কুরবানির পরিচয়

আরবি قرب বা قربان শব্দটি উর্দু ও ফার্সিতে قربانى (কুরবানি) রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। যার অর্থ, নৈকট্য, সান্নিধ্য। আল কুরআন, সহিহ হাদিস ও অভিধানে এর কয়েকটি সমার্থক শব্দ পরিলক্ষিত হয়। যেমন-

১. نحر নাহর অর্থে; যেমন- আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বাণী فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ‘সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন। (সূরা কাউসার : ২)। এই অর্থে কুরবানির দিনকে يوم النحر বলা হয়।

২. نسك নাসাক অর্থে; যেমন- মহান আল্লাহর বাণী- قُلْ إِنَّ صَلاَتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ‘আপনি বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত’। 

(সূরা আনআম : ১৬২)।  

৩. منسك মানসাক অর্থে; যেমন আল্লাহর বাণী- لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكاً ‘আমি প্রত্যেক উম্মাতের জন্য কুরবানির বিধান রেখেছি।’ (সূরা হজ : ৩৪)।

৪. الاضحى আজহা অর্থে; হাদিসে এসেছে- এ অর্থে কুরবানির ঈদকে عيد الاضحى বলা হয়।

পরিভাষায় : কুরবানি হলো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট নিয়মে, নির্দিষ্ট পশু জবেহ করা।


কুরবানির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি

বিশ্বের সকল জাতিই তাদের আনন্দ উৎসব প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট দিবস পালন করে থাকে। এ সকল দিবস স্ব স্ব ধর্মের কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা অথবা কারো জন্ম বা মৃত্যু দিন অথবা কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয়েছে। এসব দিবসে প্রত্যেক জাতি তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য-সংস্কৃতি (Culture) ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়। তামাম বিশ্বের প্রায় দুই কোটি খ্রিষ্টান যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বরকে তাদের উৎসবের (Xmas day) ‘বড়দিন’ হিসেবে পালন করে। প্রায় সত্তর পঁচাত্তর লাখ বৌদ্ধ গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন উপলক্ষে ২২ মে-কে তাদের উৎসবের দিন ‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা’ হিসেবে পালন করে থাকে। সবচেয়ে বেশি উৎসবের দিন হলো হিন্দু জাতির। তারা ১২ মাসে ১৩টি উৎসব পালন করে থাকে। তবে এর মধ্যে লক্ষ্মীপূজা ও দুর্গাপূজা অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করা হয়। সারা বিশ্বের প্রায় দেড় শ’ কোটি মুসলমান মাহে রমজানের শেষে শাওয়ালের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখকে ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ পালন করে থাকে। মুসলমানদের এ কুরবানির ঈদের রয়েছে একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।


কুরবানি ঈদের প্রাক ইতিহাস

আমরা যেভাবে কুরবানির ঈদ উদযাপন করি তার শুরু বস্তুত হিজরতের অব্যবহতি পরে। মুসলিম জাহানে এ উৎসবটি পালন কিভাবে শুরু হয় তার বিস্তারিত বর্ণনা আবশ্যক। কারণ ঈদুল আজহা তথা কুরবানি দিবসের মাহাত্ম্য ও সুমহান তাৎপর্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে হলে এর ইতিহাস জানা একান্তভাবেই প্রয়োজন। মুহাম্মাদ সা. মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় এসে তিনি জানতে পারলেন যে, সেখানকার অধিবাসীগণ শরতের পূর্ণিমায় ‘নওরোজ’ ও বসন্তের পূর্ণিমায় ‘মিহিরজান’ নামে দু’টি উৎসব প্রতিবছর উদযাপন করে থাকে। কিন্তু এ দু’টি উৎসবের চালচলন, রীতিনীতি ছিল ইসলামের সুমহান আদর্শ ও ঐতিহ্য-সংস্কৃতির পরিপন্থী। শ্রেণি-বৈষম্য, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান, ঐশ্বর্য-অহমিকার পূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করত এ দু’টি উৎসব। দু’টি উৎসব ছিল ছয়দিনব্যাপী এবং এই বারোটি দিন ভাগ করে দেওয়া হতো বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনদের মধ্যে। 

কিন্তু ইসলাম হচ্ছে শান্তি ও মিলনের সুমহান জীবনাদর্শ। সাম্য, মৈত্রী, প্রেম-প্রীতির মতাদর্শ। ইসলাম তো শ্রেণিবৈষম্যের স্বীকৃতি দেয় না। তাই শ্রেণিবৈষম্য নির্ভর শালীনতা-বিবর্জিত উৎসব দু’টির বিলুপ্তি ঘটিয়ে মনুষ্য সৃষ্ট কৃত্রিম পার্থক্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ধনী-দরিদ্রের মহামিলনের প্রয়াসে মহানবী সা. প্রবর্তন করলেন দু’টি উৎসব তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। হাদিসে এসেছে, “আনাস ইবন মালিক রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম সা. মদিনায় আগমনের পর দেখলেন মদিনাবাসীদের দু’টি উৎসবের দিন রয়েছে, এ দিনে তারা খেলাধুলা, আনন্দ ও চিত্তবিনোদন করে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ দু’টি দিন কী? তারা বলল, জাহেলি যুগে আমরা এই দিনে আনন্দ উৎসব, খেলাধুলা করতাম। রাসূল সা. তখন বললেন, আল্লাহ তায়ালা এই দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দু’টি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। একটি হলো ঈদুল ফিতর অপরটি হলো ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদ।” (সুনানু আবু দাউদ-১১৩৬; সুনানু নাসায়ী-১৫৫৬; মিশকাতুল মাসাবিহ-১৪৩৯)। এতে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ উৎসব উদযাপন। শ্রেণিবৈষম্য-বিবর্জিত, পঙ্কিলতা ও অশালীনতামুক্ত সুনির্মল আনন্দ উপভোগ ও ইবাদতের ফল্গুধারা শুরু হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে। 


কুরবানির প্রথম পটভূমি

মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বপ্রথম কুরবানির ঘটনা ঘটে আদম (আ)-এর দুই পুত্র হাবিল-কাবিলের মাধ্যমে। 

কুরআনুল কারিমে হাবিল-কাবিলের কুরবানির ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে-

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَاناً فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ- لَئِنْ بَسَطتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِيْ مَا أَنَاْ بِبَاسِطٍ يَدِيَ إِلَيْكَ لَأَقْتُلَكَ إِنِّيْ أَخَافُ اللهَ رَبَّ الْعَالَمِيْنَ-

“(হে রাসূল!) আপনি তাদেরকে আদমের পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কুরবানি করেছিল, তখন একজনের কুরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কুরবানি কবুল হলো না। সে (কাবিল) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন (হাবিল) বলল, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কুরবানি কবুল করেন। সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হাত প্রসারিত কর, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার প্রতি হাত প্রসারিত করব না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।” 

(সূরা মায়িদা : ২৭-২৮)

তৎকালীন সময়ে কুরবানি গৃহীত হওয়ার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল এই যে, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে কুরবানিকে ভস্মীভূত করে আবার অন্তর্হিত হয়ে যেত। যে কুরবানি অগ্নি এসে ভস্মীভূত করত না তাকে প্রত্যাখ্যাত মনে করা হতো। তখনকার কুরবানির পদ্ধতি সম্পর্কে জনা যায়, কাবিল ছিলেন চাষি। তিনি গমের শীষ থেকে ভালো ভালোগুলো বের করে নিয়ে খারাপগুলোর একটি আঁটি কুরবানির জন্য পেশ করেন। আর হাবিল ছিলেন পশুপালনকারী। তিনি তার জন্তুর মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভালো মোটা তাজা উৎকৃষ্ট একটি দুম্বা কুরবানির জন্য পেশ করেন। এরপর নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে হাবিলের কুরবানিটি ভস্মীভূত করে দিল। আর কাবিলের কুরবানি যথাস্থানেই পড়ে থাকল। (তাফসীর ইবন কাসীর, ৩য় খ-, পৃ: ৮২-৮৩; দুররে মনসুর, ৩য় খ-, পৃ: ৫৪; ফতহুল বায়ান, ৩য় খ-, পৃ: ৪৫; ফতহুল ক্বাদীর, ২য় খ-,পৃ: ২৮-২৯)

এ অকৃতকার্যতায় কাবিলের দুঃখ ও ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল। সে আত্মসংবরণ করতে পারল না এবং প্রকাশ্যে হাবিলকে বলে দিলো لاقتلنك ‘অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব’। হাবিল তখন ক্রোধের জবাবে ক্রোধ প্রদর্শন না করে একটি মার্জিত নীতিবাক্য উচ্চারণ করল। এতে কাবিলের প্রতি তাঁর সহানুভূতি ও উদারতা ফুটে উঠেছিল। তিনি (হাবিল) বললেন, انما يتقبل الله من المتقين ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মুত্তাকি ব্যক্তিদের কুরবানি কবুল করেন।


কুরবানির দ্বিতীয় পটভূমি

কুরবানির সর্বপ্রথম প্রচলন আদি পিতা আদম (আ)-এর সময় থেকে শুরু হলেও মুসলিম জাতির কুরবানি মূলত ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ) এবং তদীয় পুত্র ইসমাঈল জবিহুল্লাহ (আ)-এর কুরবানির স্মৃতি রোমন্থন ও অনুকরণ অনুসরণে চালু হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অগ্নি পরীক্ষা নিয়েছিলেন ইবরাহিম (আ)-এর নিকট থেকে। তিনি প্রতিটি পরীক্ষায় হিমাদ্রিসম ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী, وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيْمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّيْ جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَاماً ‘যখন ইবরাহিম (আ)কে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পুরোপুরি পূর্ণ করলেন, তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে মাবনজাতির নেতা বানিয়ে দিলাম। 

(সূরা বাকারা : ১২৪)

ইসমাঈল (আ) যখন চলাফেরা করার মতো বয়সে উপনীত হলেন, তখন ইবরাহিম (আ) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্রকে কুরবানি করার জন্য স্বপ্নাদিষ্ট হলেন। একথা সর্বজনস্বীকৃত সহিহ হাদিসে এসেছে, رُؤْيَا الْأَنْبِيَاءِ وَحْيٌ “নবীগণের স্বপ্নও ওহি।” (সহিহুল বুখারি-১৩৫, ৮১২; তিরমিজি- ৩৬২২)। তাই এ স্বপ্নের অর্থ ছিল, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ইবরাহিম (আ)-এর প্রতি স্বীয় পুত্র ইসমাঈল (আ)কে কুরবানি করার নির্দেশ। এ নির্দেশটি সরাসরি কোনো ফিরিশতার মাধ্যমেও নাজিল হতে পারত। কিন্তু স্বপ্ন দেখানোর তাৎপর্য হলো, ইবরাহিম (আ)-এর আনুগত্য পূর্ণমাত্রায় প্রকাশ পাওয়া। স্বপ্নে প্রদত্ত আদেশের ভিন্ন অর্থ করার যথেষ্ট অবকাশ ছিল। কিন্তু ইবরাহিম (আ) ভিন্ন অর্থের পথ অবলম্বন করার পরিবর্তে আল্লাহর আদেশের সামনে মাথা নত করে দেন। আত্মসমর্পণকারী ইবরাহীম (আ) এ কঠোর পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। তিনি পুত্র ইসমাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন, يَا بُنَيَّ إِنِّيْ أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّيْ أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى “হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবেহ করছি। এ বিষয়ে তোমার অভিমত কী?” পুত্র ইসমাঈল (আ) পিতার এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বলতে পারতেন এটি একটি নিছক স্বপ্ন বৈ কিছুই নয়। কিন্তু তিনি তা না বলে অত্যন্ত বিনয় ও আনুগত্যের সাথে স্বীয় পিতাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِيْ إِنْ شَاءَ اللهُ مِنَ الصَّابِرِيْنَ “পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা পালন করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারীদের মধ্যে পাবেন।” 

(সূরা সফফাত : ১০২)

আত্মনিবেদনের এ কি চমৎকার দৃশ্য! জনমানবহীন মিনা প্রান্তরে ৯৯ বছরের বৃদ্ধ ইবরাহিম (আ) স্বীয় প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র ইসমাঈলকে কুরবানি করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে এবং তাঁরই অনুরাগ ও ভালোবাসা অর্জন করার দুর্নিবার আগ্রহে পুত্রকে কুরবানির মেষের মতই উপুড় করে শুইয়ে দিলেন। আর কণ্ঠনালীকে কাটার জন্য বার্ধক্যের শেষ শক্তি একত্রিত করে শাণিত ছুরি তুলে ধরলেন। পুত্র ইসমাঈলও শাহাদতের উদগ্র বাসনা নিয়ে নিজের কণ্ঠকে বৃদ্ধ পিতার সুতীক্ষ্ণ ছুরির নিচে স্বেচ্ছায় সঁপে দিলেন। এ এক অভাবনীয় দৃশ্য! পৃথিবীর জন্ম থেকে এমন দৃশ্য কেউ অবলোকন করেনি। এ দৃশ্য দেখে পৃথিবী যেন থমকে দাঁড়ায়। পৃথিবীর সকল সৃষ্টি যেন অপলক নেত্রে চেয়ে থাকে এ চরম পরীক্ষার দিকে। সকল সৃষ্টিই যেন নিথর নিস্তব্ধ হয়ে যায় এ দৃশ্য অবলোকনে। কিন্তু না কঠিন আত্মত্যাগী ইবরাহিম (আ)ও চরম আত্মোৎসর্গকারী ইসমাঈল (আ) এ কঠিন ও চূড়ান্ত পরীক্ষায়ও কামিয়াব হলেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা হলো- وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيْمُ- قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِيْنَ- إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْبَلاَءُ الْمُبِيْنُ- وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيْمٍ- “তখন আমি তাঁকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি এর পরিবর্তে জবেহ করার জন্য দিলাম এক মহান পশু।” (সূরা সাফফাত : ১০৪-১০৭)

বিশ্ব নিয়ন্তা আল্লাহ তায়ালা ইবরাহিম (আ)-এর প্রতি সদয় হলেন। ইসমাঈলের রক্তের পরিবর্তে তিনি পশুর রক্ত কবুল করলেন। আর ইবরাহিম (আ)-এর পরবর্তী সন্তানদের জন্য কুরবানির সুন্নাতকে জারি রাখলেন। আত্মত্যাগ ও আত্মসমর্পণের এ মহান স্মৃতিকে চির জাগ্রত করার জন্যই ১০ যিলহজকে আল্লাহ চিরস্মরণীয় ও বরণীয় করেছেন। জন্ম থেকে জীবনের ৯৯ বছর ধরে একের পর এক পরীক্ষায় যখন আল্লাহ তায়ালা ইবরাহিম (আ)-এর প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, তখন তাঁর এ সুমহান কীর্তি পৃথিবীর সকল মুসলমানের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত অবিস্মরণীয় ও স্থায়ী করে দিলেন। আল্লাহর বাণী: وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِيْنَ “আমি তাঁর জন্য এ বিষয়টি পরবর্তীদের জন্য পালনীয় করে রেখেছি।” (সূরা সাফফাত : ১০৮)

আজও আমরা সেই ইবরাহিমি সুন্নাতের অনুসরণেই প্রতি বছর যিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে আল্লাহর রাহে পশু কুরবানি করে থাকি। এটি মুসলিম মিল্লাতের অন্যতম একটি অনুপম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। কিয়ামত পর্যন্ত এ মহান আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে।


মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে কুরবানি

মুসলিম জাতি যেহেতু শেষ নবী মুহাম্মাদ সা.-এর উম্মাত, সেহেতু তাঁর সুন্নাত বা ঐতিহ্য সংস্কৃতি ছাড়া অন্য কোনো নবীর ঐতিহ্য-সংস্কৃতি লালন-পালন করার সুযোগ নেই, একমাত্র ইবরাহিম (আ)-এর ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ব্যতীত। কেননা তিনি মুসলিম জাতির পিতা। এ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জাগরূক রাখতে আল্লাহ তায়ালা নিম্নোক্ত আয়াতে নির্দেশ দিয়েছেন- فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ “আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।” (সূরা কাউসার : ২)

মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও জনপদে কুরবানির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার সাথে উদযাপন করা হয়। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, লেখাপড়া ও চাকরির জন্য বাড়ি থেকে দূর-দূরান্তে অবস্থান করা মানুষগুলো পরিবার-পরিজনের সাথে কুরবানিতে অংশগ্রহণের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও বাড়িতে চলে আসে। শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্রই সাজ-সাজ রব পরিলক্ষিত হয়। ধনী-দরিদ্র, ইতর-ভদ্র, রাজা-প্রজা সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলেই খোলা আকাশের নিচে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের সালাত আদায় করে। সালাতের পর সকলে একসাথে কুরবানি করে কুরবানির গোশত গরিব-দুঃখী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিতরণের যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তা সত্যিই অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।


প্রত্যেক উম্মাতের কুরবানির সংস্কৃতি ছিল

কুরবানির এ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি শুধু মুসলমান, হিন্দু, ইহুদি, নাসারা ও জাহেলি যুগের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং প্রত্যেক নবী-রাসূলের উম্মাতের ওপর কুরবানির বিধান ছিল। অন্যান্য নবী-রাসূলদের যুগেও কুরবানির ইতিহাস পাওয়া যায়। তবে সব নবী-রাসূলের কুরবানির পদ্ধতি এক নয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ. 

“আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি; তিনি তাদের জীবনোপকরণস্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ পশু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ; সুতরাং তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণ করো এবং সুসংবাদ বিনীতদের জন্য।” 

(সূরা হজ : ৩৪) 


কুরবানির শরয়ী হুকুম

কুরবানির শরয়ী হুকুমের বিষয়ে আলেমগণের দু’টি মত রয়েছে। যথা- 

১. ওয়াজিব: হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সামর্থ্যবানদের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। তাঁদের দলিল-কুরআনুল কারিমের ভাষায়:فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَر ‘সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য সালাত এবং কুরবানি আদায় করুন।” (সূরা কাউসার : ২)  


হাদিসের ভাষায়;

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه  أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ، وَلَمْ يُضَحِّ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا. 

“আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সা. বলেন; কুরবানি করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কুরবানি করল না সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (সুনানু ইবন মাজাহ-৩১২৩; মুসনাদু আহমাদ-৮২৫৬, ৮২৭৩)

২. সুন্নাতে মুয়াক্কাদা: জমহুর উলামাগণের মতে কুরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তাঁদের দলিল-

عَن أم سلمة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِذَا رأيتم هِلالَ ذِي الْحِجَّةِ وأراد أحدكم أَنْ يُضَحِّيَ فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعرِهِ وأظفاره. 

“উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামা রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: তোমরা যখন জিলহজের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছে পোষণ করবে তাহলে সে যেন  (চাঁদ উদিত হওয়া হতে কুরবানি পর্যন্ত) তার চুল ও নখ কাটা হতে বিরত থাকে।” (সহিহ মুসলিম-৫২৩৪; ৫২৩৬; তিরমিজি-১৫২৩)। এখানে তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছে পোষণ করবে’ দ্বারা কুরবানি করাকে আবশ্যক বুঝানো হয়নি বরং সুন্নাতে মুয়াক্বাদাহ সাব্যস্ত হতে পারে।


যাদের জন্য কুরবানি ওয়াজিব

জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক হতে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে তার জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব, তবে এ ক্ষেত্রে জাকাতের ন্যায় বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। নিসাব বলতে হাওয়ায়েজে আসলিয়াহ তথা নিত্যপ্রয়োজনীয় ধন-সম্পদ বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রৌপ্য বা তার সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাহলে এ জাতীয় প্রত্যেক মুসলিম (নর-নারী), প্রাপ্তবয়স্ক, মুকিম, সফরে না থাকা ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তির ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। 


কুরবানির ফজিলত

কুরবানি ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। ইসলামে এর গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। হাদিসে এসেছে,

عَن زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رضي الله عنه ، قَالَ: قُلْتُ : أَوْ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا هَذِهِ الْأَضَاحِيُّ؟ قَالَ: سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ، قَالُوا: مَا لَنَا مِنْهَا؟ قَالَ: بِكُلِّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ 

হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম/তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে রাসূল সা.! এ কুরবানি কী? তিনি বলেন: ইহা তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ)-এর সুন্নাত। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, এতে আমাদের জন্য কী (উপকারিতা) রয়েছে? তিনি বলেন, (কুরবানির পশুর) প্রত্যেকটি পশমের বিনিময়ে তোমাদের জন্য সওয়াব রয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ-৩১২৭; মুসনাদু আহমাদ-১৯২৮৭) 

عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال ما عمل آدمي من عمل يوم النحر أحب إلى الله من إهراق الدم إنها لتأتي يوم القيامة بقرونها وأشعارها وأظلافها وأن الدم ليقع من الله بمكان قبل أن يقع من الأرض فيطيبوا بها نفسا.

“আয়িশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: ‘কুরবানির দিন আল্লাহর নিকট বনি আদমের পশু জবেহ অপেক্ষা অন্য কোন আমল অধিক পছন্দনীয় নয়। কিয়ামতের দিন কুরবানিকৃত পশুর পশম, খুর ও শিংসহ উপস্থিত হবে।” (তিরমিজি-১৪৯৩; মিশকাতুল মাসাবীহ-১৪৭০)


কুরবানি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই

এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ) আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী প্রিয়পুত্র ইসমাঈল (আ)কে কুরবানি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে চরম ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সে ত্যাগের সুন্নাতকে জারি রাখার জন্যই ঈদুল আজহাতে পশু কুরবানি করতে হয়। সেহেতু কুরবানির উদ্দেশ্য হলো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন। সকল রকমের লৌকিকতা পরিহার, কুপ্রবৃত্তির দমন ও পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টির মানসে তাকওয়ার গুণাবলি অর্জন করাই কুরবানির উদ্দেশ্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ  كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ  وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِين.  

“কখনোই আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না কুরবানির পশুর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। তিনি তাদেরকে তোমাদের জন্য এমনভাবে অনুগত করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর দেওয়া পথনির্দেশনার ভিত্তিতে তোমরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। আর হে নবী! সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দাও।” (সূরা হজ : ৩৭) 

অর্থাৎ কুরবানিদাতা যেন আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানি করে। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গ করার জাযবায় উজ্জীবিত হওয়া, ইবরাহিমের পুত্র কুরবানির ন্যায় ত্যাগ-পূত আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ করা ও তাঁর বড়ত্ব প্রকাশ করাই কুরবানির প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা।

মানব সভ্যতার সুদীর্ঘ ইতিহাস প্রমাণ করে যে দুনিয়ার সব সভ্য জাতি ও সম্প্রদায় কোনোনা কোনোভাবে আল্লাহর দরবারে তার প্রিয় বস্তু উৎসর্গ বা কুরবানি করতেন। কুরবানির বিধান যুগে যুগে সব শরিয়তেই বিদ্যমান ছিল। আর এসবের উদ্দেশ্য ছিল একটাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করা, ত্যাগ স্বীকার করা, উৎসর্গ করা ইত্যাদির নাম হচ্ছে কুরবানি। 

পশু কুরবানি করা হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন;

قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ.

“বল আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণ বিশ্বজাহানের প্রতিপালক কেবল আল্লাহর জন্য। তার কোন অংশীদার নেই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর আমিই প্রথম মুসলিম।” (সূরা আনআম : ১৬২-১৬৩)

ইবরাহিম (আ) তাঁর প্রাণপ্রিয় সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানির নির্দেশ পালন করা এবং সে বিধান বাস্তবায়নে তাঁর মানসিকতা আল্লাহর নিকট কবুল হয়েছিল। ইবরাহিম (আ) আল্লাহর নৈকট্য লাভের এ মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করেননি; তাইতো তিনি উপাধি লাভ করেছিলেন ‘খলিলুল্লাহ’ বা অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি কুরবানির মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা মুসলিম উম্মাহকে যে শিক্ষা দিয়েছে তা হলো ‘কুরবানি শুধু লোক দেখানোর জন্য নয় বরং পশুকে জবাইয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। ঈদুল আজহার অন্যতম একটি কাজ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই পশু কুরবানি করা। এই কুরবানি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণাধারায় মানবতাকে পুণ্যসিক্ত ও সমৃদ্ধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।


ইসলামিক বিধানে এবং মুসলিম সমাজে কুরবানি বা পশু জবেহ অন্যতম অপরিহার্য ইবাদত হিসেবে গণ্য। এ জন্য জিলহজ মাসের নির্ধারিত সময়ে বা ঈদ উৎসবে কুরবানি করা হয়। একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কুরবানির উদ্দেশ্য হলেও কারো কারো কুরবানিতে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কে কত বড়-দামি পশু কুরবানি করে এ নিয়েও প্রতিযোগিতা হয়। কারো কারো কুরবানির মধ্যে সম্পদ-অহমিকা প্রকাশ করার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। এ ছাড়া সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেও অনেককে কুরবানি করতে দেখা যায়। এসব লোকদেখানো কিংবা প্রভাব বাড়ানোর কুরবানি পশুহত্যায় পর্যবসিত হয়। অধিকন্তু দরিদ্র-দুস্থ লোকদেরকে কুরবানির গোশত দান না করে শুধু নিজেরা ভোগ করার পরিণতিও একই। অথচ পার্থিব স্বার্থ ত্যাগ করে শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই কুরবানি করতে হয়। কুরবানির পশুর আকার বড়-ছোট কিংবা রং-মূল্য বিবেচ্য বিষয় নয়। 

অনুরূপভাবে বিশুদ্ধ নিয়ত ছাড়া কুরবানিও আল্লাহ তায়ালার নিকট গৃহীত হয় না। তাই মহান আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য কুরবানির জন্য বিশুদ্ধ নিয়তের প্রয়োজন হয় এবং ত্যাগের প্রবল সাধনা থাকতে হয়। 

আপাত দৃষ্টিতে কুরবানি বলতে ‘পশু জবেহ’ বা ‘রক্তপ্রবাহ’ মনে হলেও এর মাধ্যমে অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে এবং সত্য-ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম-সাধনার শক্তি সঞ্চারিত হয়; কুরবানির ত্যাগের মধ্যে সত্য-ন্যয় প্রতিষ্ঠা তথা আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের নিকট সোপর্দ করা এবং আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গ করার দীক্ষা পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে কুরবানির ত্যাগের মাধ্যমে মানবিক- নৈতিক শক্তি ও সাহস অর্জিত হয়, যা দিয়ে অন্যায়-অপশক্তিকে পরাজিত করা যায়। একইভাবে ধৈর্য-ত্যাগের শিক্ষাও গ্রহণ করা যায়। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়।


কুরবানির শিক্ষা

মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহিম (আ) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ) কে আল্লাহর রাহে কুরবানি দেওয়ার সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেভাবে ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মানবজাতিকে ত্যাগের শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সে আদর্শ ও প্রেরণায় আমরা আমাদের জীবনকে ঈমানী আলোয় উজ্জীবিত করব, এটাই কুরবানির মৌলিক শিক্ষা। ত্যাগ ছাড়া কখনোই কল্যাণকর কিছুই অর্জন করা যায় না। মহান ত্যাগের মধ্যেই রয়েছে অফুরন্ত প্রশান্তি। কুরবানি আমাদেরকে আরও শিক্ষা দেয় যে, দুনিয়াবী সকল মিথ্যা, বানোয়াট, অনাচার, অবিচার, অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন, হানাহানি, স্বার্থপরতা, দাম্ভিকতা, অহমিকা, লোভ-লালসা ত্যাগ করে পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীনের ঝাণ্ডা সুমুন্নত করে শান্তি ও সাম্যের পতাকা উড্ডীন করা।

পশু কুরবানি মূলত নিজের নফস তথা কুপ্রবৃত্তিকে কুরবানি করার প্রতীক। কুরবানি আমাদেরকে সকল প্রকার লোভ-লালসা, পার্থিব স্বার্থপরতা ও ইন্দ্রিয় কামনা-বাসনার  জৈবিক আবিলতা হতে মুক্ত ও পবিত্র হয়ে মহান প্রতিপালকের প্রতি নিবেদিত বান্দা হওয়ার প্রেরণা জোগায় এবং আল্লাহর জমিনে তাঁরই দ্বীন প্রতিষ্ঠার পক্ষে আত্মোৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করে। কুরবানির সার্থকতা এখানেই। তাই পশুর গলায় ছুরি চালানোর সাথে সাথে যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা, কুফর, শিরক, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, রিয়া, পরচর্চা-পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, আত্মগর্ব, আত্মঅহংকার, কৃপণতা, ধনলিপ্সা, দুনিয়ার মায়া-মুহববত কলুষতার মত যেসব জঘন্য পশুসুলভ আচরণ সযত্নে লালিত হচ্ছে তারও কেন্দ্রমূলে ছুরি চালাতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি মুহূর্তে প্রভুর আনুগত্য, নির্দেশনা প্রতিপালন ও তাকওয়ার দ্বিধাহীন শপথ গ্রহণ করতে হবে। স্মর্তব্য যে, রমজানের সিয়ামের উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন করা, কুরবানির উদ্দেশ্যও তাকওয়া অর্জন করা এবং কুরআন থেকে হিদায়াত পাওয়ার শর্তও তাকওয়া অর্জন করা। আর তাকওয়ার বলে বলীয়ান হয়েই আল্লাহ তায়ালার রেজামন্দি অর্জন করা যায়।


ইসলামের প্রত্যেকটি ইবাদতে যেমনি মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন লক্ষ্য হয় ও অশেষ সওয়াব নির্ধারিত থাকে, তেমনি এ কুরবানিতে মানবজাতির জন্য বহুবিধ শিক্ষা নিহিত রয়েছে। কুরবানির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শিক্ষা- 

১. এ কুরবানি আমাদের আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের স্বীকৃতির শিক্ষা দেয়। কুরআনুল কারিমের ভাষায়: فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ “সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য সালাত এবং কুরবানি আদায় করুন।” (সূরা কাউসার : ২) 

২. আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সমীপে নিজেকে পরিপূর্ণরূপে সমর্পণ করা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:

فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ 

“যখন তারা দু’জন আনুগত্য প্রকাশ করলেন এবং ইবরাহিম তার পুত্রকে কাত করিয়ে শুইয়ে দিলেন, তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে, এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।” 

(সূরা সফফাত : ১০৩-১০৫)

৩. তাকওয়ার গুণাবলি অর্জন ও তার যথাযথ অনুশীলন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: ذَلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ “ইহা আল্লাহর বিধান এবং যে আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করল, এটা তো তার অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।” 

(সূরা হজ : ৩২)

৪. আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। কুরআনুল কারিমের ভাষায়: كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ “এভাবেই আমি ঐগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (সূরা হজ : ৩৬) 

৫. সর্বাবস্থায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে স্মরণ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন:  لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ  “তিনি তাদের জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। (সূরা হজ : ৩৪) 

৬. কুরবানি আত্মত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের প্রত্যক্ষ শিক্ষা দেয়।

৭. সকল কাজে রিয়ামুক্ত বিশুদ্ধ নিয়্যাতের আবশ্যকতা রয়েছে।

৮. স্বীয় অধীনস্থদেরকেও আল্লাহর বিধান পালনে অভ্যস্ত করা। সহিহ হাদিসে এসেছে, عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ “আবদুল্লাহ ইবন উমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূূলুল্লাহ সা. বলেন: তোমারা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” (সহিহুল বুখারি-৪৮৩, ২২৭৮, ২৪১৬, ২৪১৯, ২৬০০, ৪৮৯২, ৪৯০৪, ৬৭১৯ ও সহিহ মুসলিম-৪৮২৮) 

৯. পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে ইসলামের বিধান পালনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। 

১০. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ করা। কুরআনুল কারিমের ভাষায়:يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَى  قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ “হে প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি জবেহ করছি, এখন তোমার অভিমত কী? সে বলল, হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা বাস্তবায়ন করুন।” (সূরা সাফফাত : ১০২)

১১. সবরের শিক্ষা। কুরআনুল কারিমের ভাষায়: سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ “আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। (সূরা সাফফাত : ১০২)  

১২. সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়।

কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি, সান্নিধ্য ও  নৈকট্য অর্জিত হয়, ধনী-গরিব, সুখী-দুঃখী নির্বিশেষে সকলের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। উঁচু-নিচু, জাতি-বর্ণ ভেদাভেদ দূর করে একই কাতারে একই সাথে আনন্দ উপভোগ করার ক্ষেত্র তৈরি করে। 


পরিশেষে বলা যায়, কুরবানির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি শুধু মুসলিম মিল্লাতের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। যুগ-যুগান্তরের প্রতিটি ধর্মে কুরবানির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু অন্যান্য ধর্মের কুরবানির পদ্ধতি ও মুসলিম মিল্লাতের কুরবানির পদ্ধতির মাঝে বহু বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। মুসলমানদের কুরবানি নিছক কোনো আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, আত্মসমর্পণের একটি সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ কুরবানির সংস্কৃতির প্রবর্তক স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ) ও তদীয় পুত্র ইসমাঈল (আ) যে অবিস্মরণীয় ত্যাগ, আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অবিচল আস্থা ও আনুগত্যের চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেই স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় ও পালনীয় কল্পে কুরবানির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আবহমানকাল যাবৎ চলে আসছে। শুধু পশুর গলায় ছুরি চালানোতে কোনো সার্থকতা নেই, বরং কাম-রিপু, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহমিকা-দাম্ভিকতা, অবৈধ অর্থ লিপ্সা, পরচর্চা-পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতাসহ যাবতীয় মানবীয় পশুত্বের গলায় ছুরি চালাতে পারলেই কুরবানি সার্থকতা বয়ে আনবে। 

আসুন নিজে কুরবানি দেই এবং অপরকে উদ্বুদ্ধ করি। কুরবানির গোশত ও চামড়া থেকে গরিব-দুস্থ মানুষদের অধিকার বুঝিয়ে দেই। নিষ্ঠার সাথে কুরবানি দিয়ে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের পথে এগিয়ে যাই। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে মানুষ দেখানোর জন্য কুরবানি নয় বরং পশুকে জবাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনের পশু ও আমিত্বকে জবাই করি এবং কুরবানির মাধ্যমে তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত হয়ে আল্লাহর নির্দেশিত কুরআনি সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাউফিক দান করুন। আমিন। 


লেখক : প্রধান মুহাদ্দিস, বিজুল দারুল হুদা কামিল মাদরাসা, বিরামপুর, দিনাজপুর

আপনার মন্তব্য লিখুন

Dr. Md Anamul Haque

- 11 months ago

Alhamdulillah

AHMAD ABDULLAH NAYEEM

- 11 months ago

Alhamdulillah

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির