সর্বশেষঃ
post

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা

কে এম শফিকুল ইসলাম

১৪ নভেম্বর ২০২২

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং আধুনিক যুগে একটি জনপ্রিয় প্রকৌশল ক্ষেত্র। এটি বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য শিল্পও। কারণ পোশাক আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশে টেক্সটাইল শিল্প খুব দ্রুতই বিকাশ লাভ করেছে এবং বর্তমানে বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে। পোশাক রফতানিতে চীনের পর বাংলাদেশের অবস্থানও দ্বিতীয়। এখন বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার গার্মেন্টস এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি বস্ত্রশিল্প রয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ৪ মিলিয়ন লোক শুধু পোশাক শিল্পে কাজ করে। প্রায় ৮৫ হাজার বিদেশী বাংলাদেশে বৈধভাবে কাজ করে। সুতরাং একটি বিশাল কাজের সুযোগ রয়েছে এই সেক্টরে। তাই বাংলাদেশে এখন যা দরকার তা হল দক্ষ, প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। অনেক শিক্ষার্থী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন দেখেন কিন্তু সরকারি-বেসরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়ালেখার ধরন, খরচ, সুযোগ-সুবিধা, কর্মক্ষেত্রে চাহিদা, বিদেশে উচ্চশিক্ষা- এসবের প্রকৃত বিবরণ না জানায় অনেকে এই সেক্টরে আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। বাস্তবতা হচ্ছে এখানে চাকরিপ্রার্থীর তুলনায় চাকরির চাহিদা অনেক বেশি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা এই শিল্পে যদি আপনি নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে আজকের আয়োজন আপনার জন্য। 

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কী?

টেক্সটাইল বলতে সাধারণত বুনন করা বোঝায়। এটি বোনা, অ-বোনা, ফ্যাব্রিক বা কাপড় নির্দেশ করে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহজ বাংলা হলো প্রকৌশল যার  প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো আপনাকে বিজ্ঞানের সাথে যুক্ত করা। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি শাখা যা টেক্সটাইলের নকশা, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহার নিয়ে কাজ করে। ফাইবার থেকে ইয়ার্ন, ইয়ার্ন থেকে ফেব্রিক, তার উপর ডাইং, প্রিন্টিং এই সকল ক্ষেত্রে দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জনই হলো- টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। তাছাড়া, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা বস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন এবং যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেন।

কেন পড়বেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে?

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে এখন শুধুমাত্র সেলাই করে গার্মেন্টস তৈরিকেই বুঝায় না, গার্মেন্টস তৈরির সাথে সাথে এর রূপ, রঙ, আরামদায়ক প্রবণতা থেকে আগুন প্রতিরোধী কিনা, আগ্নেয়াস্ত্রের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারবে কি না, পানিরোধী কিংবা সুগন্ধ প্রবণতাকেও বুঝায়। মহাকাশচারী যে পোশাক পরবে কিংবা অস্ত্রোপচার এর পর যে সুতা দিয়ে সেলাই করা হবে অথবা যে পোশাক পরিধানে শরীরের রক্তচাপ থেকে মানসিক অবস্থার বহিঃপ্রকাশ পোশাকে দৃশ্যমান হবে এমন বিষয়গুলোও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অন্তর্ভুক্ত। 

নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেকচারার মনীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘বস্ত্রখাতে প্রতি বছর মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয় আর তাতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী। তাতে শুধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটারাই নয় ভিড় করে নন- টেক্সটাইল গ্র্যাজুয়েটরাও, যা এই সেক্টরের সমৃদ্ধিকেই প্রামাণ করে। এ সেক্টরে জীবন ও জীবিকার রোমাঞ্চকর অনুভ‚তি আছে, আছে আর দশটা গ্র্যাজুয়েট এর মত রাজচাকরির সুযোগ। তাই টেক্সটাইলের অগ্রযাত্রায় মানবকল্যাণ অথবা অর্থনীতির চাকায় দেশ-দশ তথা নিজের কল্যাণ চাইলে পড়তে হবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শ্রম ও মেধার সময়োচিত সমন্বয়ে।’

কোথায়, কী কী পড়ানো হয়?

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় : টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশে মোট ৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুটেক্স একমাত্র বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯২১ সাল থেকে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের মাদার নামে পরিচিত। বুটেক্সের পাঁচটি অনুষদের অধীনে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন, টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড ম্যাইন্টেনেন্স, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসহ মোট ১০টি বিষয়ের ওপর বিএসসি ও এমএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বুটেক্সে মোট আসন সংখ্যা মাত্র ছয়শত। এর বাইরে ৪টি সরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে- ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েট প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বি.এস.সি. ও এম.এস.সি. করার সুযোগ রয়েছে। 

সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ : বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৯টি সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রয়েছে যেগুলো চার বছর মেয়াদি বি.এস.সি. ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদান করে থাকে। প্রতিটি কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম বুটেক্সের সিলেবাস অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং পাসের সনদপত্র বুটেক্স কর্তৃক প্রদান করা হয়। কলেজগুলো সম্পূর্ণরূপে বুটেক্স নিয়ন্ত্রিত। সরকারি ৯টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টাঙ্গাইল; চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বেগমগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নোয়াখালী; বরিশাল শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ঝিনাইদহ শেখ কামাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, নরসিংদী; শেখ রেহেনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, গোপালগঞ্জ। বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম জানান, বুটেক্স অধিভুক্ত ৯টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৪টি করে বিভাগ রয়েছে। ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েট প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং; এই ৯টি কলেজে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। 

ইনস্টিটিউট/ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে ভর্তিকার্যক্রম পরিচালিত বাংলাদেশ এর সর্বপ্রথম এবং একমাত্র সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে টেক্সটাইল শিক্ষাবিষয়ক ইনস্টিটিউট হল-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ। যা নিটার নামে পরিচিত। এখানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ বিএসসি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অংশীদারিত্বে পরিচালতি হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এসব  ইনস্টিটিউটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দিনাজপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট পুলহাট, দিনাজপুর; টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, বাজিতপুর, টাঙ্গাইল; বরিশাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, গৌরনদী, বরিশাল; নাটোর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, নাটোর; রংপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, রংপুর; চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, লবণচরা। 

বেসরকারি টেক্সটাইল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং ইনস্টিটিউট থেকে যে সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়ালেখা সম্পন্ন করে, তা টেক্সটাইল শিল্পে চাকরির যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে সে তুলনায় নগণ্য। নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মো: আবদুল্লাহ আল জামান জানান, ‘দেশের গার্মেন্টস শিল্পের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে দেশের অনেক বেসরকারি  বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ বছর মেয়াদি ‘বি.এস.সি. ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং’ ডিগ্রি চালু রয়েছে। মাত্র ৪ লাখ টাকায় এই ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে টাকার পরিমাণ কম-বেশি রয়েছে।’ আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স টেকনোলজি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য বিখ্যাত। বিএসসি চালু করা বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বাংলাদেশের সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মনে করা হয়। এ ছাড়াও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো- নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। 

বিদেশে উচ্চশিক্ষা 

টিউশন ফি ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের পড়াশোনার জন্য বিদেশে টেক্সটাইলে বি.এস.সি, এম.এস.সি এবং পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য আইইএলটিএস স্কোর সর্বনি¤œ ৬.৫ বা তার বেশি প্রয়োজন হবে। এছাড়াও জিআরই, টোফেল কোর্সে ভালো স্কোর থাকলে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ সহজেই মিলবে। রয়েছে চাকরির সুযোগ। ইউরোপের দেশগুলো যদি আপনার পছন্দের তালিকায় প্রথম থাকে  তাহলে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মানি এই তিনটি দেশ সেরা, কারণ এখানে টিউশন ফি লাগেনা। এছাড়া নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কে ১০ থেকে ৫০% পর্যন্ত স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। জার্মানির Hochschule Niederrhein University of applied science এর ম্যানেজমেন্ট অব টেক্সটাইল ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে এম.এস.সি অধ্যয়নরত শিক্ষার্র্থী শরিয়ত উল্লাহ বলেন, ফুল ফ্রি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য এমন সেরা ৭টি বিশ^বিদ্যালয় হলো- আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, নেব্রাস্কা লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানির ড্রেসডেন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, সুইডেনের বোরাস বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানির ইউনিভার্সিটি অফ হফ এবং যুক্তরাজ্যের বোল্টন বিশ্ববিদ্যালয়/ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন বলেন, বিদেশে এমন কোনো দেশ নাই যেখানে টেক্সটাইল বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা, ফিলাডেলফিয়া, জর্জিয়া ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব লিডস, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ড ব্রিস্টল, ইউনিভার্সিটি অব বোল্টন, কানাডার ম্যানিটবা, আলবার্টা ও ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি ইউনিভার্সিটি, কোরিয়ার ইনহা ইউনিভার্সিটি, চায়নার উহান ও ডংহুয়া বিশ^বিদ্যালয়, হংকং-এর হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি উচ্চশিক্ষার জন্য শীর্ষে রয়েছে। 

চাকরির বাজার 

আধুনিকায়নের সাথে সাথে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কর্মক্ষেত্র দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে এবং বিদেশেও আকর্ষণীয় বেতনে বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েটরা সফলতার সাথে কাজ করছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন বলেন, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলে দেশে ১০ হাজারের অধিক গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে এই সেক্টরে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মক্ষেত্রও বিস্তর। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, কেমিক্যাল, ফ্যাব্রিক, ইয়ার্ন মার্কেটিং, মেশিন মাকেটিং, দেশী বিদেশী কনসাল্টেন্সি, ড্যাটা অ্যানালাইসিস, কলেজ, আইএফসি এর মত বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট সংস্থা, আরএমজি, ফ্যাশন ডিজাইনিং, জুট ও অ্যাগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ডেনিম সেক্টর, গার্মেন্ট ওয়াশিং, গার্মেন্টস কোম্পানি, দেশী বিদেশী বায়িং হাউজ, শিল্প ঋণ প্রদানকারী সংস্থা, ট্রেডিং হাউজ, বিভিন্ন স্পিনিং, নিটিং, উইভিং এবং ডাইং মিল, প্রিন্টিং, এ ছাড়াও ব্যাংকের প্রজেক্ট ফাইন্যান্সেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের আয় কেমন জানতে চাইলে মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন বলেন, একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ১৫-২৫ হাজার টাকায় চাকরি শুরু করলেও ৩ থেকে ৪ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে বেতন ৫০-৬০ হাজার টাকা হতে পারে। দক্ষতা এবং প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারলে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা বেতন পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে অনেকেই এই সেক্টরে ৩০ লাখ টাকা বেতনে চাকরি করছেন। তবে নিজেকে অবশ্যই দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে যে দক্ষ জনশক্তি দরকার সেটা আমরা বুটেক্স থেকে সরবরাহ করছি। এই সেক্টর বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য আমরা নতুন নতুন আইডিয়া প্রয়োগ করছি। নতুন নতুন টেকনোলজি এবং দক্ষ প্রকৌশলী ছাড়া এগুলো সম্ভব না। আরএমজি সেক্টর টিকিয়ে রাখতে হলে এডুকেশন সেক্টরে গবেষণা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা নতুন কারিকুলাম তৈরি করতে কাজ করছি তবে আমাদের আরো ভালো শিক্ষক তৈরি করতে হবে। তাদের দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আরো স্কিল ডেভেলপমেন্ট বৃদ্ধি করতে হবে। পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা নেই। যদি আরো বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায় তাহলে এই সেক্টর আরো বেশি শক্তিশালী হবে। 

লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির