post

দলীয় মন্ত্রিপরিষদ ও সংসদ বহাল রেখে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

সরদার আবদুর রহমান

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

এ বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত যে, গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা, মানবাধিকার, ধারাবাহিক ও টেকসই উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনোই বিকল্প নেই। আর সে নির্বাচন জাতীয় বা স্থানীয় যে পর্যায়েই অনুষ্ঠিত হোক না কেনো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, গত এক যুগে বাংলাদেশের এই নির্বাচন বা ভোট-ব্যবস্থার বলতে গেলে একপ্রকার অপমৃত্যুই ঘটেছে। বিশেষ রাজনৈতিক দল বা জোটের হাতে দেশের শাসন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখার প্রয়াস থেকেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব। তাতে সার্বিকভাবে মূল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও পদ্ধতিই ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে।

বর্তমান সংশোধিত সংবিধানের আলোকে নির্বাচন করা মানে বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ও তার ৩৫০ জন সংসদ সদস্য, দলীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এবং বর্তমান এমপি পদ বহাল রেখেই তার অধীনে নির্বাচন করা। আর সেটিই হবে কথিত ‘নির্বাচনকালীন সরকার’। এর ফলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো নিশ্চয়তা আদৌ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বতোভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।’ যদিও প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ সম্পর্কে সংবিধানে কোনোপ্রকারের বিধানই নেই। ফলে তিনি সংবিধানেরই রেফারেন্স দিয়ে কিসের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়ার কথা বললেন তা বিশ্লেষকদের বোধগম্য হয়নি। তাহলে তাঁর কথার কি এই অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে, বর্তমান দলীয় সরকার অর্থাৎ মহাজোট সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে? প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার বিষয়েও কোনো নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়নি।

 

সংবিধানের বিধান যা বলে

বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা বাতিলের পর যে সংশোধনী সংযোজিত হয়েছে তাতে নিম্নরূপ অবস্থা বিদ্যমান-

বিদ্যমান সংসদ ও মন্ত্রিসভা পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ ও মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বহাল থাকবে। যদি রাষ্ট্রপতি পূর্বেই তা ভেঙে না দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ আসন্ন (২০১৮) যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে তাতে চলমান জাতীয় সংসদ, দলীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এবং বর্তমান এমপিগণের পদে বহাল থাকছেনই। 

এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই অযোগ্য করিবে না।’ আর ৫৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় যেকোনো সময়ে কোনো মন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের (১) দফার (ক), (খ) ও (ঘ) উপ-দফার কোনোকিছুই অযোগ্য করিবে না। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকিলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে; তবে এই পরিচ্ছেদের বিধানাবলি-সাপেক্ষে তাঁহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁহারা স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন।’ 

এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে। তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।’ 

‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে’ বলে বক্তব্য দেয়া হয় তাতে মনে হতে পারে যে, সংবিধানে সে ব্যবস্থা হয়তো বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু ভাষ্যকাররা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের পর সংবিধান খুঁজে কোথাও নির্বাচনকালীন সরকার গঠন সম্পর্কে কোন অনুচ্ছেদ বা উপ-অনুচ্ছেদ পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠন ব্যতীত কোনো বিকল্পও দেখা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন পর্যবেক্ষকগণ।

রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, মহাজোটের শাসনক্ষমতা অব্যাহত রাখতে সংবিধানকে ইচ্ছেমত কাটাছেঁড়া করার পর এখন এই সংবিধানের দোহাই দেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকার যদি নিজেদের সুবিধার পথ সুগম রাখার জন্য সংবিধানে ব্যাপক রদবদল ঘটাতে পারে তাহলে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার স্বার্থে সামান্য পরিবর্তন মেনে নিতেই পারে। 

এদিকে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন ঘটলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের নিজ নিজ পদে বহাল রেখেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

অর্থাৎ বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের আসন শূন্য ঘোষণা না করেই বর্তমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তিনশ’ আসনে নির্বাচন করতে হবে। আর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন আগে। নতুন সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা আগের সংসদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বও নিতে পারবেন না। 

এমতাবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং তার পরেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীগণ, প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীগণ স্ব স্ব পদে বহাল থাকবেন, আইন প্রয়োগ করবেন, পুলিশ-র‌্যাবকে হুকুম দেবেন, প্রশাসনে রদবদল করবেন, সমগ্র প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করবেন, উন্নয়নকাজে অর্থ বরাদ্দ করবেন এবং সেগুলোর উদ্বোধন করবেন, ত্রাণ বিতরণ করবেন ইত্যাদি। 

প্রশাসনিক ও উন্নয়নকাজের অসিলায় তাঁরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন, বক্তব্য দেবেন, মিডিয়ায় প্রচারের অগ্রাধিকার পাবেন। এসব কাজ নিশ্চয়ই সামগ্রিক নির্বাচনী আবহ ও পরিবেশকে প্রভাবিত করবে। সংবিধানের বিধানের জোরেই তাঁরা এসব কাজ অব্যাহত রাখবেন। অন্যকোনো বিষয়ই তাঁদেরকে এ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো একটি দেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সব বৈধ রাজনৈতিক দল ও সকল বৈধ ভোটার তথা নাগরিক অবাধে এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারেন। এজন্য প্রয়োজন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তথা সমতল নির্বাচনী মাঠের। এটি নিছক কোনো শ্লোগান নয়- একটি অপরিহার্য বিষয়।

পর্যবেক্ষকরা বলে আসছেন, সংসদ বহাল থাকলে এবং এমপি পদ অব্যাহত থাকলে তা হবে নির্বাচনী মাঠের জন্য এক অসম অবস্থা। একজন নির্বাচিত ব্যক্তি হিসেবে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন এবং অন্য প্রার্থীরা তার বিপরীত অবস্থানে থেকে নির্বাচন করবেন। এতে কী করে নির্বাচনী মাঠ সমতল হবে- সে প্রশ্নও উঠছে। 

সংবিধান ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দেশের রাষ্ট্রপতি তাকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন যিনি বিদ্যমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হন। কিন্তু সংসদ ভেঙে গেলে তো প্রধানমন্ত্রী আর সেই সংসদের আস্থাভাজন থাকার প্রশ্ন আসে না। 

এছাড়া যে সকল মন্ত্রী নির্বাচনকালে বহাল থাকবেন সংসদ কার্যকর না থাকার কারণে তারাও আর নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন না। ফলে ‘নির্বাচিত’ সরকারের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ধারণারও কোন যুক্তি নেই। সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ যেহেতু সংবিধানেই বিদ্যমান রয়েছে ফলে তা কার্যকর করতেও কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়ররা পদত্যাগ করেই নির্বাচন করেন। সেখানে কোনো সমস্যাও হয় না। তাহলে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমস্যা কেন হবে- সে প্রশ্ন তুলছেন রাজনীতির বিশ্লেষকরা। 


ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচনে সমস্যা

দলীয়ভাবে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করেছেন একজন গবেষক। তিনি নির্বাচনকালে ক্ষমতাসীন রাজনীতিকগণ সরকারি ও প্রশাসনিক কী কী সুবিধা নিজেদের অনুকূলে ব্যবহার করতে পারে ও বিরোধীদের সেগুলো থেকে বঞ্চিত করতে পারে তা অনুধাবন ও চিহ্নিত করার কথা উল্লেখ করেন-

এক. বিভিন্ন পর্যায়ের ও মাত্রার উন্নয়নকার্যক্রম সাধন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হতে পারে- যা ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদেরকে ভোট প্রাপ্তিতে সুবিধা দিতে পারে।

দুই. প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুকূল বা প্রতিকূল পদায়ন বা বদলির হুমকি বা প্রলোভন ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদের অনুকূলে ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ বা প্ররোচিত বাধ্য করা হতে পারে। 

তিন. প্রশাসনিক/নির্বাহী ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে বিরোধীদলীয় কর্মী-সমর্থক-ভোটারদের গ্রেফতার করা বা আটকে রাখার হুমকি প্রয়োগ করে নিষ্ক্রিয়/ছত্রভঙ্গ করা ও পলাতক থাকতে ভীত বা বাধ্য করা হতে পারে- যা বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

চার. সরকারের মন্ত্রীগণ এবং অন্যবিধ সরকারি/রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারী সংসদ সদস্য বা দলীয় নেতাগণ (রেড ক্রিসেন্ট ও অন্য সব সরকারি/রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান/প্রধান হিসেবে) সরকারি যানবাহনসহ অন্যবিধ সুবিধা কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার কাজে অংশ নিতে পারেন, যা তাদের অনুকূলে সমর্থন সৃষ্টিতে ও ভোট প্রাপ্তিতে সহায়ক হতে পারে। 

পাঁচ. নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এবং নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ভোট চিহ্ন দিয়ে ব্যালট বাক্সে ফেলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে সম্প্রতি একটি রিপোর্টে ইঙ্গিত করা হয়েছে। 

ছয়. ভোট প্রদানের গতি কমিয়ে/বাড়িয়ে কোনো প্রার্থীর পক্ষে/বিপক্ষে ভূমিকা রাখা যায়।

সাত. প্রদত্ত ভোট গণনা না করা, গণনা করা ভোট চূড়ান্ত পর্যায়ে যোগ না করা এবং ভোট যোগ করা হলেও তা স্বীকার/ঘোষণা না করে অন্য ফল ঘোষণা করা হতে পারে। 

আট. ভোটকেন্দ্র থেকে বিরোধী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেওয়া এবং অথবা তাদেরকেও মামলার মাধ্যমে হয়রানির ভীতি দেখিয়ে এবং অথবা বিশেষ কোনো প্রাপ্তির প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদের অনুকূলে ভূমিকা পালনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। 

নয়. ডিজিএফআই-এনএসআই প্রভৃতি সামরিক-বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাও কোনো রাজনৈতিক পক্ষ/প্রার্থীর নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অঘোষিতভাবে গ্রেফতার প্রক্রিয়ার আওতায় হয়রানি করতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষের বিজয়কে নিশ্চিত করতে পারে।

এ বিষয়গুলোর সম্ভাব্য যথার্থ সমাধান নিশ্চিত করার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাহীন এবং অথবা ক্ষমতার অসৎ ব্যবহারের সুযোগবিহীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যবস্থাপনা বা তত্ত্বাবধানেই সম্ভাব্য ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।


সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিবন্ধক

মোটা দাগে যে সকল বিষয়গুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে তা নিম্নরূপ-

- নির্বাচন কমিশনের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থাহীনতা।

- নির্বাচনের সময় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। 

- ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) প্রতি বেশির ভাগ দলের অনাস্থা।

- অর্থ ও পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণ। 

- নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। 

- সব দলের নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ। 

- প্রার্থীদের নির্বিঘœ প্রচার।

- জাল ভোট বা ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাই রোধ। 

- প্রার্থী বা এজেন্ট বা ভোটারদের অবাধে ভোটকেন্দ্র আসা। 

- ভোটারদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি। 

- পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োগ; 

- পর্যাপ্তসংখ্যক নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ এবং 

- নিরপেক্ষ দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকের ব্যবস্থা রাখা।


নির্বাচসংশ্লিষ্ট উপরোক্ত অনিয়ম ও অপতৎপরতা শুধু আইনপ্রয়োগের মাধ্যমেই সম্ভব হবে না। এজন্য একইসঙ্গে বিদ্যমান সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, ভোটগ্রহণকারী জনশক্তি, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ, পর্যবেক্ষক প্রভৃতি সকল পক্ষকে একাত্ম ও একাট্টা হতে হবে এসব অনিয়ম ও অপতৎপরতা নির্মূল করতে। এজন্য একটি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিক অনুশীলন প্রয়োজন। বিশেষ পক্ষকে ক্ষমতাসীন হতে অথবা ক্ষমতায় টিকে থাকতে এসব শক্তি ও অপকৌশল প্রয়োগ অব্যাহত রাখলে সুস্থ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী সংস্কৃতি কখনোই গড়ে উঠতে পারবে না বলে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গ্রন্থপ্রণেতা

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির