সর্বশেষঃ
post

দাওয়াত ইলাল্লাহ : পদ্ধতি ও কৌশল

ড. মো. হাবিবুর রহমান

১৯ জানুয়ারি ২০২২

ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (১২৫) অনুবাদ তোমরা রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয়ই একমাত্র তোমার রবই জানেন কে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভালো করেই জানেন। (সূরা নাহল : ১২৫)

নামকরণ এ সূরার ৬৮ নম্বর আয়াতের (وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا) বাক্যাংশ থেকে النَّحْلِ (আন-নাহল) শব্দটিকেই এ সূরার নাম হিসেবে ধরা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে মৌমাছি।

নাজিল হওয়ার সময়কাল এটি মাক্কী সূরা যা রাসূল সা.-এর মক্কী জীবনের শেষের দিকে নাজিল হয়। সূরার সাধারণ বর্ণনাভঙ্গি দ্বারাও এর সমর্থন পাওয়া যায়। যেমন- এ সূরার ৪১ নম্বর আয়াতের (وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ) বাক্যাংশ থেকে পরিষ্কার জানা যায় সূরাটি হাবশায় হিজরতের প্রাক্কালে অবতীর্ণ হয়েছে। এ সময় জুলুম-নিপীড়নের মাত্রা অত্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল এবং এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল যে, যদি কোন ব্যক্তি নির্যাতনের আধিক্যে বাধ্য হয়ে কুফরি বাক্য উচ্চারণ করে ফেলে তাহলে তার ব্যাপারে শরিয়াতের বিধান কি হবে যা এ সূরার ১০৬ নম্বর আয়াতের (مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ) বাক্যাংশ থেকে জানা যায়। এসকল প্রেক্ষাপটে মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে দিতে এ সূরা অবতীর্ণ করেন।

বিষয়বস্তু ও আলোচ্য বিষয় শিরককে বাতিল করে দেয়া, তাওহিদকে প্রমাণ করা, নবীর আহ্বানে সাড়া না দেয়ার অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা ও উপদেশ দেয়া এবং হকের বিরোধিতা ও তার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন করাই এ সূরার মূল আলোচ্য বিষয়। মক্কার কাফেররা বারবার বলতো, “আমরা যখন তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছি এবং প্রকাশ্যে তোমার বিরোধিতা করছি তখন তুমি আমাদের আল্লাহর যে আজাবের ভয় দেখাচ্ছো তা আসছে না কেন?” তাদের এসকল প্রশ্নের জবাব এ সূরার মধ্যে দেওয়া হয়েছে। যেমন- ১. হৃদয়গ্রাহী যুক্তি এবং সুস্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের সাহায্যে বুঝানো হয়েছে যে, শিরক মিথ্যা আর তাওহিদই সত্য। ২. অস্বীকারকারীদের সন্দেহ-সংশয়, আপত্তি, যুক্তি ও টালবাহানার প্রত্যেকটির জবাব দেয়া হয়েছে এ সূরায়। ৩. মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরার পরিণতি এবং সত্যের মোকাবেলায় অহঙ্কার ও আস্ফালনের অশুভ পরিণাম সম্পর্কে আলোচনা। ৪. নবী সা. ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের মনে সাহস সঞ্চার করা হয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে কাফেরদের বিরোধিতা, জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুমিনদের মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মনীতি কী হতে হবে তাও বলে দেয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ “তুমি তোমরা রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রবই জানেন কে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভালো করেই জানেন।” এ আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম ঈমানের দাবিদার প্রত্যেক মুসলমানের উপরে ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। এবং এর পরই ইসলামের দিকে আহ্বানকারীকে বলে দেওয়া হয়েছে সে কিভাবে, কোন পদ্ধতি ও কৌশল অবলম্বনে দাওয়াতি কাজ করবে। উপরোক্ত আয়াতের আলোকে দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব-প্রয়োজনীয়তা ও দাওয়াতি কাজের কর্মপন্থা ও কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ইসলামের দিকে আহ্বানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা এতই বেশি যে, এ কাজ থেকে যদি কোনো ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র বিরত থাকে তাহলে তারা আল্লাহর একটি ফরজ হুকুম অমান্য করার অপরাধে অপরাধী হবে। এ কাজকে আল্লাহ মুসলিম উম্মাহর উপরে ফরজ করে দিয়েছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ “তোমাদের মধ্যে একটা দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হলো সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান : ১০৪) যারা আল্লাহর পথে মানুষদেরকে আহ্বান করে তারা সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাদের মর্যাদা সবার উপরে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ “তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্ল¬াহর প্রতি ঈমান আনবে।” (সূরা আলে ইমরান : ১১০) উপরোক্ত বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, ইসলামের দিকে আহবান করা বা ডাকার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম নি¤েœ তার একটি চিত্র তুলে ধরা হলো :

দাওয়াতি কাজ করা আল্লাহর নির্দেশ ইসলামী দাওয়াহ প্রচার, প্রসার ও সম্প্রসারণে প্রতিটি মুসলমান নর-নারী আল্লাহর নিকট দায়বদ্ধ, এটা প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর ওপর আল্লাহ তায়ালা ফরজ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা.কে শেষ নবী হিসেবে রিসালাতের মহান দায়িত্ব অর্পণ করে প্রেরণ করেন এবং সকল মানুষের নিকট এ দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দান করেন। যারা রাসূল সা.-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঈমান আনবে তাদের বেহেশতের সুসংবাদ এবং যারা এর বিরোধিতা করবে তাদের জন্য দোজখের আজাবের কথা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শেষ নবীর উম্মতদের ওপরও দাওয়াতি কাজ আল্লাহ ফরজ করেছেন যেটা উপরোক্ত আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়। এ ছাড়া অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ “তোমরা তোমাদের রবের দিকে মানুষকে আহ্বান করো এবং তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেও না।” (সূরা কাসাস : ৮৭) আল্লাহ বিশেষ করে জ্ঞানীদের জন্য এ কাজ ফরয করেছেন, তারা যেন মানুষেদেরকে দ্বীনের শিক্ষা দেয় এবং শিরক ও গুমরাহি থেকে মানুষকে রক্ষা করে। যে ব্যক্তি ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জ্ঞান রাখে তার জন্য ততটুকু অন্যকে শিক্ষাদান করা ফরজ। (রাসূল সা.-এর দাওয়াতের পদ্ধতি ও মাধ্যম-পৃ: ৮)

আল্লাহর পথে দাওয়াত নবী ও রাসূলদের কাজ সকল বিপর্যয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার লক্ষ্যে যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল (আ) মানবসমাজে এসেছিলেন। আদি পিতা হযরত আদম (আ) থেকে শুরু করে হযরত নূহ, ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব, লুত, সালেহ, হারুন, হুদ, ইউনূস, ইউসুফ, মূসা, দাউদ, সুলায়মান, লোকমান, ঈসা (আ) এবং সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ সা. পর্যন্ত সকলেই ইসলামী দাওয়াতের মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ঘোষণা করা হয়েছে, لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ “আমি নূহকে তাঁর জাতির কাছে প্রেরণ করেছিলাম তিনি তাদের কাছে বললেন, হে আমার জাতি তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর! তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই।” (সূরা আরাফ : ৫৯) এ সম্পর্কে আরো বর্ণিত হয়েছে, أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنْصَحُ لَكُمْ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ “আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাচ্ছি আমার রবের রিসালাতসমূহ এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি। আর আমি আল্লাহর কাছ থেকে এমন কিছু জানি, যা তোমরা জান না।” (সূরা আরাফ : ৬২) শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ ‘‘হে রাসূল! তোমার প্রভুর পক্ষ হতে তোমার উপর যা কিছু নাজিল করা হয়েছে, তা লোকদের কাছে পৌঁছে দাও। তুমি যদি তা না কর, তাহলে তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পালন করবে না। লোকদের অনিষ্ট হতে আল্লাহই তোমাকে রক্ষা করবেন। (সূরা মায়িদা : ৬৭) নবী-রাসূলগণের উত্তরসূরি হিসেবে দায়ী ইলাল্লাহ এ মহান কাজের আঞ্জাম দিবে।

দায়ীরা রাসূল সা.-এর ওয়ারিশ আল্লাহর পথে দাওয়াতি কাজ করা নবী মুহাম্মদ সা.-এর কাজ, এ জন্যই তাকে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছিলো। রাসূল সা.কে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেন, قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي “আপনি বলে দিন, এই আমার পথ। আমি ও আমার অনুসারীরা আল্লাহর দিকে বুঝে-শুনে দাওয়াত দেই।” (সূরা ইউসুফ : ১০৮) এ থেকে জানা যায়, একজন দায়ীকে নবী-রাসূলগণের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁদের রেখে যাওয়া কাজকে আঞ্জাম দিতে সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হবে। হাদিসে জ্ঞানীদেরকে আম্বিয়াদের উত্তরসূরি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন- إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ “আলেমগণ আম্বিয়াদের উত্তরসূরি।” (আবু দাউদ) আল্লাহ তায়ালা স্বীয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা.কে বলেন, لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য এক একটি নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করেছি যা তারা পালন করেছে। অতএব, তারা যেন এ ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক না করে। আপনি তাদেরকে আপনার প্রভুর দিকে আহ্বান করুন। নিশ্চয়ই আপনি সরল ও সঠিক পথে আছেন।” (সূরা হাজ্জ : ৬৭)

আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারীগণ শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী যারা আল্লাহর পথে মানুষদেরকে আহ্বান করে তারা সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাদের মর্যাদা সবার উপরে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ “তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্ল¬াহর প্রতি ঈমান আনবে।” (সূরা আলে ইমরান : ১১০) এ সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ خَيْرَ النَّاسِ لِلنَّاسِ تَأْتُونَ بِهِمْ فِي السَّلَاسِلِ فِي أَعْنَاقِهِمْ حَتَّى يَدْخُلُوا فِي الْإِسْلَامِ “হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, মানুষের মাঝে তারা শ্রেষ্ঠ মানুষ যারা লোকদেরকে ইসলামে প্রবেশ করাবার জন্য গলায় শিকল পরিয়ে নিয়ে আসে।” (বুখারি)

দায়ীরা মানুষের জন্য সাক্ষী আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ সা.-এর উম্মতকে মধ্যমপন্থী উম্মত বলে সম্বোধন করেছেন, তারা কিয়ামতের দিন সকল উম্মতের জন্য সাক্ষী হবে। তাই দায়ী ইলাল্লাহ মধ্যমপন্থী জাতি হিসেবে মানুষের জন্য সাক্ষী হিসেবে থাকবে। এ সম্পর্কে আল কুরআনে বর্ণিত হয়েছ, وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا “আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হও এবং রাসূল সাক্ষী হন তোমাদের ওপর।” (সূরা বাকারা : ১৪৩) উম্মতে মুহাম্মাদীর দায়ীগণ মানুষের জন্য সাক্ষী হিসেবে থাকবে এ কারণেই সকল নবী-রাসূলগণ মুহাম্মদ সা.-এর উম্মতের মর্যাদা স্বীকার করেছেন। এ সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُدْعَى نُوحٌ عَلَيْهِ السَّلَام يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ لَهُ هَلْ بَلَّغْتَ فَيَقُولُ نَعَمْ فَيُدْعَى قَوْمُهُ فَيُقَالُ لَهُمْ هَلْ بَلَّغَكُمْ فَيَقُولُونَ مَا أَتَانَا مِنْ نَذِيرٍ أَوْ مَا أَتَانَا مِنْ أَحَدٍ قَالَ فَيُقَالُ لِنُوحٍ مَنْ يَشْهَدُ لَكَ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ “হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, কিয়ামতের দিন নূহ (আ)কে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার উপর দ্বীনের যে দায়িত্ব ছিল তুমি কি তা পৌঁছে দিয়েছ? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। তারপর তাঁর জাতিকে ডাকা হবে, তাদেরকে বলা হবে, তোমাদের নিকট কি দাওয়াত পৌঁছেছে? তারা উত্তর দিবে আমাদের নিকট কোনো ভয় প্রদর্শনকারী আসেনি অথবা কেউ আসেনি। তখন নূহ (আ)কে বলা হবে, তোমার কোন সাক্ষী আছে? নূহ (আ) বলবেন, মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর উম্মত আমার সাক্ষী।” (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদ)

দায়ী ইলাল্লাহর কথা পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারীর কথা কাজ এই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। কারণ দায়ীরা ইসলাম সম্পর্কে অশিক্ষিত ও মূর্খদেরকে দ্বীনের পথে আনার চেষ্টা করে। আর যে মূর্খদেরকে শিক্ষাদান করে, গাফিলদেরকে নসিহত করে, মানুষকে সঠিক ইবাদতের দিকে ডাকে তার কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কারো হতে পারে না। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে বলেন, وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ “তার কথার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত?” (সূরা হা-মীম সাজদা : ৩৩) আল কুরআনে আরো বর্ণিত হয়েছে, وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ “আর হে আমার কাওম, কী হলো যে, আমি তোমাদেরকে মুক্তির দিকে ডাকছি আর তোমরা আমাকে ডাকছ জাহান্নামের দিকে! তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছ যে, আমি যেন আল্ল¬াহর সাথে কুফরি করি, তাঁর সাথে শরিক করি যে ব্যাপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই; আর আমি তোমাদেরকে ডাকছি মহাপরাক্রমশালী ও পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।” (সূরা মু’মিন : ৪১-৪২) আয়াতের পরবর্তী অংশে ইসলামের দিকে ডাকার ক্ষেত্রে একজন দায়ীর তিনটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশলের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তাহলো- দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত অবলম্বন করা দায়ীকে দাওয়াত দানের ক্ষেত্রে দাওয়াত দানের আসালিব (পদ্ধতি) মেনে চলতে হবে। বিশেজ্ঞগণ দাওয়াত দানের বহুবিধ পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে হিকমত (الْحِكْمَة) অন্যতম। ইসলামী দাওয়াত প্রচারে হিকমাহ্ অবল¤¦নের গুরুত্ব তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ইসলামী দাওয়াতের কার্যক্ষেত্র বা পরিধি যেমন ব্যাপক, তেমনি হিকমতের পরিধিও ব্যাপক। পবিত্র কুরআনুল কারিমের এ আয়াতের মধ্যে সর্বপ্রথম সে হিকমতের কথাই উল্লেখ করেছেন। হিকমত অবল¤¦ন করার মাধ্যমে দায়ীর আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা উদ্বেলিত করে।

হিকমতের পরিচয় ‘হিকমাহ্’ একটি ব্যাপক অর্থজ্ঞাপক শব্দ। এর অর্থ তত্ত্বজ্ঞান, বিজ্ঞান, জ্ঞান, দর্শন, পরিণামদর্শিতা, বিচক্ষণতা এ শব্দটির মূল ধাতু حكم এর এর অর্থ আদেশ করা, শাসন করা, নিষেধ করা, বিরত রাখা, বিধিসমূহ পরিচালনা করা, আদেশ প্রবর্তন করা, মীমাংসা করা। (আরবি-বাংলা অভিধান, ঢাকা : বাংলা একাডেমি, ২য় খ-, পৃ. ১২০৪-১২০৫) আরবি ভাষায় حكيم শব্দটি ফায়সালাকারী এবং চিকিৎসকের অর্থেও ব্যবহার হয়। ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী হিকমতের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে, هي الإصابة في القول والفعل ووضع كل شيء موضعه “কথা ও কাজে সঠিক তথা যথাযথ এবং প্রত্যেকটি বিষয় বা বস্তুকে যথাযথ স্থানে রাখাকে হিকমত বলে।” (আত-তাফসীরুল কাবীর, ৪র্থ খ-, পৃ. ৭৪)

দাওয়াত দানে হিকমতের স্বরূপ উপযুক্ত অবস্থা অনুধাবন করে সময়, স্থান ও পরিবেশ বুঝে দাওয়াত উপস্থাপন করতে হবে। মহানবী সা. মক্কায় তিন বছর গোপনে দাওয়াত দেন, এভাবে প্রাথমিক শক্তি সঞ্চয়ের পর আল্লাহ তায়ালা কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ করে বলেন, فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ “সুতরাং তোমাকে যে আদেশ দেয়া হয়েছে, তা প্রকাশ্যে প্রচার কর এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।” (সূরা হিজর : ৯৪) এর পরে রাসূল সা. প্রকাশ্যে দাওয়াত দেয়া শুরু করেন। এখানে হিকমত হচ্ছে প্রথমেই যদি প্রকাশ্যে দাওয়াত দেয়া শুরু করা হতো তাহলে ইসলামের আলো সূতিকাগারেই নিভিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতো কিন্তু আল্লাহ তায়ালা সে সুযোগ কাফের-মুশরিকদের দেন নাই। এজন্য প্রথমে গোপনে দাওয়াতের উপদেশ দেন। আমরা হযরত নূহ (আ)-এর দাওয়াতেও একই হিকমত দেখতে পাই। তিনি গোপনে ও প্রকাশ্যে মানুষদেরকে আল্লাহর পথে ডাকতেন। আল্লাহ বলেন, ثُمَّ إِنِّي دَعَوْتُهُمْ جِهَارًا ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنْتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَارًا “তারপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে আহ্বান করেছি। অতঃপর তাদেরকে আমি প্রকাশ্যে এবং অতি গোপনেও আহ্বান করেছি।” (সূরা নূহ : ৮-৯)

দাওয়াতি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে দাওয়াত উপস্থাপন করাকেও হিকমাহ এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমন হযরত সোলাইমান (আ) সাবার রানীকে প্রযুক্তির ব্যবহার করে দাওয়াত দিয়েছিলেন। আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الصَّرْحَ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَكَشَفَتْ عَنْ سَاقَيْهَا قَالَ إِنَّهُ صَرْحٌ مُمَرَّدٌ مِنْ قَوَارِيرَ قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (৪৪) “তাকে বলা হল, ‘প্রাসাদটিতে প্রবেশ কর’। অতঃপর যখন সে তা দেখল, সে তাকে এক গভীর জলাশয় ধারণা করল এবং তার পায়ের গোছাদ্বয় অনাবৃত করল। সুলাইমান বলল, ‘এটি আসলে স্বচ্ছ কাঁচ-নির্মিত প্রাসাদ’। সে বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নিজের প্রতি যুলুম করেছি। আমি সুলাইমানের সাথে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম’।” (সূরা নামল : ৪৪) এভাবে দায়ী ইলাল্লাহগণ পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুধাবন করে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেবে।

দাওয়াতি ক্ষেত্রে মাওইযাতুল হাসানাহ-এর অনুসরণ দায়ীকে মাওয়েজাতুল হাসানা পদ্ধতির অনুসরণ করার মাধ্যমে বিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা করা সম্ভব। ইসলামী দাওয়াতের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে দাওয়াহ দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব। এ আয়াতে হিকমত অবলম্বনের পরই মাওয়েযা হাসানা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। ‘মাউইযা’ শব্দটি আভিধানিক দিক দিয়ে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। যথা- তায্কির বা স্মরণ করানো। এর আর একটি অর্থ হচ্ছে নসিহতের সুরে স্মরণ করিয়ে দেয়া, কেউ কেউ একে নেক কাজের আদেশ দেয়া, ভীতি প্রদর্শন করা অর্থ বুঝিয়েছেন। ‘হাসানা’ অর্থ ভালো, সুন্দর, মাধুর্যম-িত। আল-মাউইযাতুল হাসানার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আল্লামা বায়যাভী বলেন, الموعظة الحسنة الخطابات المقنعة والعبر النافعـة “মাউইযাতুল হাসানা হল তুষ্টি ব্যক্তিক বক্তৃতামালা ও উপকারী বা কার্যকরী শিক্ষণীয় ও দৃষ্টান্তমূলক বিষয়সমূহ।” (আন্ওয়ারুত-তানযীল ওয়া আসরারুত-তাবীল, পৃ. ৩৬৯) বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় দাওয়াতের এ পদ্ধতি অত্যন্ত উপাদেয়। বন্ধুত্বপূর্ণ নরম ব্যবহার, সাবলীল ভাষা ব্যবহার, শান্ত-শিষ্ট ও ধীর স্থির চিত্তে মাউইযা আল-হাসানা উপস্থাপন মাদউ-এর মনকে দাওয়াত গ্রহণে সহযোগিতা করে। উত্তম ব্যবহার, সুন্দর আচরণ একজন মাদউর মনমগজকে দাওয়াত গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তোলে। এ জন্য দায়ী কখনো ভালোর বিপরীত কাজ করতে পারে না। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ (৩৪) وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ (৩৫) “আর ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত কর তা দ্বারা যা উৎকৃষ্টতর, ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে সে যেন হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু। আর এটি তারাই প্রাপ্ত হবে যারা ধৈর্যধারণ করবে, আর এর অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা মহাভাগ্যবান।” (সূরা হা-মীম সাজদা : ৩৪-৩৫)

দাওয়াতি ক্ষেত্রে মুজাদালা অবলম্বন করা উক্ত আয়াতের সর্বশেষ বলা হয়েছে, وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ “তোমরা ঝগড়া-বিবাদের সময় উত্তম পন্থা অবলম্বন করবে।” আয়াতের এ অংশ থেকে জানা যায়, ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্রে একজন দায়ী মুজাদালা বা ঝগড়া-বিবাদ করতে পারবে, এটা মানুষের কাছে ইসলাম প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে যদি ঝগড়া-বিবাদ বাধে সে ক্ষেত্রে উত্তমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। আরবি মুজাদালা শব্দের অর্থ: পারস্পরিক আলোচনা এবং যুক্তি প্রমাণের মাধ্যমে বিতর্কমূলক মত বিনিময়। দাওয়াত প্রচারে বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ পদ্ধতি অবল¤¦নে পবিত্র কুরআনের প্রত্যক্ষ নির্দেশ রয়েছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ “তোমরা উত্তম পন্থা ব্যতীত আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করবে না।” (সূরা আনকাবুত : ৪৬) নবী-রাসূলগণ, সাহাবি, তাবেয়ি পরবর্তীকালে সালফেসালিহিনগণ এ পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। প্রতিপক্ষের চিন্তাধারা বিশ্বাস প্রমাণ খ-নে এ পদ্ধতিটির গুরুত্ব অনস¦ীকার্য। এ পদ্ধতি অবলম্বন করার মাধ্যমে বিরোধী শক্তির মোকাবেলা করে ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। উপরোক্ত দারস থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য শিক্ষা হচ্ছে, ১. দাওয়াতি কাজ করা ফরজ তাই এটাকে জীবনের মিশন হিসেবে নিতে হবে। ২. দাওয়াতকে ফলপ্রসূ করার জন্য হিকমত অবলম্বন করতে হবে এবং মাওয়েজা আল-হাসানার মাধ্যমে দাওয়াত উপস্থাপন করতে হবে। ৩. যদি ইসলামের স্বার্থে বিতর্কের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পন্থা অবলম্বন করতে হবে। যতদূর সম্ভব বিবাদ এড়িয়ে চলার নীতি অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির