সর্বশেষঃ
post

বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচন : মার্কিন স্বার্থ

আমীর হামযা

০৮ জুন ২০২২

দেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো সময় বাকি দেড় বছর। তবু অল্পবিস্তর হলেও তৈরি হচ্ছে নির্বাচনী আবহ। মৃদুমন্দভাবে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। শুধু দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, ইতোমধ্যে বিদেশী বন্ধুরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীজনেরাও আগামী সংসদ নির্বাচনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছেন। তবে ক্ষমতাসীনরা এ বিষয়ে বিরক্ত; পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যে সে বিষয়টি বোঝা যায়।

বন্ধুরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলো বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে কী প্রত্যাশা করছে সে সম্পর্কে পরোক্ষ নয়; প্রত্যক্ষ কথা বলতে এবং মন্তব্য করতে আরম্ভ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত পশ্চিমা দেশসমূহ এখন থেকেই রাখঢাকহীনভাবে সরব হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্রের মন্তব্য বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নির্বাচন প্রত্যাশা করে তা প্রণিধানযোগ্য। যে মন্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিয়ে মার্কিন মনোভাব কী তা সহজেই অনুমেয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নিড প্রাইস ৩ জুন নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, মানবাধিকার, শ্রম-অধিকারসহ মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং শরণার্থীদের সুরক্ষা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে নিয়মিত এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নিড প্রাইস ওই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে আমাদের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমরা অনেক ইস্যু তুলতে পারি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। এই আলোচনা আমরা প্রকাশ্যে অথবা ব্যক্তিগতভাবে করে থাকি। শুধু তিনি নন, ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ৩১ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির (ডিকাব) সাথে মতবিনিময়ের সময় বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বার্তা পাঠান। এতে তিনি নির্বাচন, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরেন। 

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র আরো বলেছেন, সমাবেশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশের জন্যও এটি সমানভাবে প্রযোজ্য। আমরা নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এই অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানাই।

যুক্তরাষ্ট্রের এই মনোভাব থেকে একটি প্রশ্ন রাজনীতি সচেতন যে কোনো ব্যক্তির মনে জাগা স্বাভাবিক যে- গত দু’টি নির্বাচন অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ‘নিশি ভোট’ মানে; আগের রাতেই ব্যালটবাক্স ভরে ফেলার পরও ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান নেয়নি কেন? এবার কেনইবা স্বচ্ছ নির্বাচন নিয়ে এত আগ্রহী। যাতে করে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছেন। 

এ জিজ্ঞাসার জবাব পেতে হলে আমাদের আমলে নিতে হবে বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচন হলে যুক্তরাষ্ট্রের কী লাভ? স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কিভাবে সংরক্ষণ করতে পারে? এসব প্রশ্নের জবাবের উত্তর খুঁজে পাওয়ার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বিষয়টি অনুধাবনে আসবে। প্রকৃত সত্য উপলব্ধিতে সহায়ক হবে। আমাদের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বাস্তবতার নিকটবর্তী হওয়া হয়তো বা পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। একথা মনে রাখা আবশ্যক, রাজনৈতিক বিষয়ের কোনো পূর্বাভাস শতভাগ মিলবে; একথা হলফ করে কেউ বলতে পারবেন না। তার কারণ, যেহেতু রাজনীতি গতিশীল একটি বিষয়; তাই সময়ে সময়ে এর গতিপথ বদলায়। তবে লক্ষণ দেখে সম্ভব্য পরিণতি কী হতে পারে আঁচ করা অসম্ভব নয়। 

একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। এনেছে গুণগত পরিবর্তন। ফলে বিগত বছরগুলোতে দেশে গণতন্ত্র দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে। বিশেষ করে ভোটগ্রহণ বা নির্বাচনী ব্যবস্থা রীতিমতো নির্বাসনে গেছে। অনেকে কৌতুক করে বলে থাকেন, বাংলাদেশে নির্বচনী-ব্যবস্থা ‘গুম’ হয়ে গেছে। 

মূলত ‘ওয়ার অ্যাগেইনস্ট টেরোরিজম বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ’ এত দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাধান্য পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জোর না দিয়ে দেশে দেশে মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনের অনুগতদের মদদ দেওয়া। মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থে গণতন্ত্রের সমর্থক। আবার স্বার্থ বিবেচনায় স্বৈরশাসকের মদদদাতা। নিজের স্বার্থে যে কোনো স্বৈরশাসনকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে লজ্জবোধ নেই ওয়াশিটনের। এর একটি যুতসই নজির মিসরে নির্বাচিত ইসলামপন্থী মুরসি সরকারকে হটিয়ে রক্তের স্রােত বইয়ে দিয়েও জেনারেল সিসি-কে ক্ষমতায় বসানো। এখানে গণতন্ত্র নয়; মার্কিন স্বার্থই ছিল মুখ্য। ফলে ত্রুটিপূর্ণ নয়, বৈশ্বিকভাবে আমাদের শাসকরা দো-আঁশলা বা হাইব্রিড রেজিম তকমা পাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান সরকারের সাথে কাজ করতে কোনো দ্বিধা করেনি। কিন্তু এখন কেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচন চাইছে? কারণ আর কিছু নয়, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থ সংরক্ষণের নীতি শ্রেয় বলে মনে করছে। এটিই ওয়াশিংটনের জন্য অধিকতর বেহেতর। কেন এমন কথা বলছি, তার যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দেওয়ার দায় থেকেই প্রাসঙ্গিকভাবে এ লেখায় সেই বিশ্লেষণ তুলে ধরার চেষ্টা। এই মতামতের সাথে কারো ভিন্নমত থাকতেই পারে। 

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুণগত মেরুকরণ হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে বাঁকবদলে চীনের প্রভাব দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ওয়াশিংটনের মিত্ররা শঙ্কিত। অথচ গত শতকের নব্বই দশকের শুরুতে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। মানে, একমাত্র সুপার পাওয়ার। কিন্তু সেই অবস্থা এখন আর প্রাসঙ্গিক নেই। ভাটা পড়েছে। চীনের আধিপত্য বাড়তে থাকায় শঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্র। গত ত্রিশ বছর ধরে ইসলামকে এক নম্বর শত্রুজ্ঞান করে মুসলমানদের জানি দুশমন হিসেবে নিশানা করে যে পররাষ্ট্রনীতি সাজিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র তাতে বদল ঘটাতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। পরিণামে মুসলিম দেশগুলোতে রাজনৈতিক ইসলাম কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একান্ত চাওয়া। ওয়াশিংট মুসলিম নিধননীতি আরো বেগবান করে নাইন-ইলেভেনে টুইন টাওয়ারে হামলার পর। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে আফগানিস্তান এবং পরবর্তীতে ইরাক ও লিবিয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইঙ্গ-মাকিন বাহিনী। এ যুদ্ধে পশ্চিমা সব দেশ একযোগে অংশ নেয়। কিন্তু দুই দশক ধরে ওই সব মুসলিম দেশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চালানোর ফাঁকে চীন দুর্বার গতিতে বিশ্বব্যাপী শক্ত অর্থনৈতিক প্রভাববলয় গড়তে সক্ষম হয়। এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের বোধোদয় হয় যুক্তরাষ্ট্রের এ মুহূর্তে মুসলমানরা নয়, এক নম্বর শত্রু চীন। ফলে দুই দশক আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালিয়ে বিপুল অর্থ লোকসান গুনে তালেবানের হাতে ফের কাবুল তুলে দিয়ে পরোক্ষভাবে পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়ে সৈন্য সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বাহিনী। একমাত্র কারণ চীনের অগ্রগতি প্রতিরোধ করা। ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে এই যে পরিবর্তন, এতে দেশে দেশে ইসলামপন্থীরা শ্বাস নেওয়ার জায়গা পাচ্ছে। দিন দিন তাদের রাজনৈতিক স্পেস বাড়বে, একথা নিশ্চিত করে বলা যায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এ লক্ষণ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। ফলে আমাদের দেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তিগুলো এতোদিন যুক্তরাষ্ট্রের যে নেক নজরে ছিল; আগের মতো কদর আর থাকছে না। কে না জানে, বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী যে ধারা ইসলামপন্থীদের সাথে নিয়ে এগোবে তাদের সহযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করবে। 

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক কারণে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং রাশিয়ার প্রতি দুর্বলতা থাকায় যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে অধিকতর মনোযোগী হবে ওয়াশিংটন। এর সাম্প্রতিক নজির পাকিস্তানে সাংবিধানিক পন্থায় ইমরান সরকারের পতন। ইমরানের অপরাধ ছিল, তিনি এবং তার সরকার চীন ও রাশিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েছিলেন। মনে হয়, একই পরিণতি বরণ করতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কার চীনঘেঁষা গোতাবায়া পাকসের। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে স্বচ্ছ নির্বাচন হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উত্তম বিবেচনা। এর কারণ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী আমাদের দেশের চারটি নির্বাচনে প্রবণতা ছিল কোনো সরকারই এক মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় না থাকা। এর ব্যত্যয় ঘটে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে। তখন থেকেই নির্বাচনী ব্যবস্থা ভাঙতে শুরু করে। এখন ওয়াশিংটন মনে করছে, বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচন হয়ে ক্ষমতাসীনরা ভোটে পরাজিত হয়ে আপনা আপনি বিদায় হবে। তখন ওয়াশিংটন উচ্চকণ্ঠে বলতে পারবে, বৃহৎ উন্নয়ন অংশীজন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। 

পশ্চিমা শক্তি যে বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচনে সচেষ্ট সেই আলামত একটু একটু করে দৃশ্যমান হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্রদের বক্তব্য বিবৃতি থেকেও বিষয়টি আঁচ করা যায়। এটি বাস্তবায়নে খানিকটা চাপ প্রয়োগের নীতিও অবলম্বন করেছে ওয়াশিংটন। যেমন মানবাধিকার সংরক্ষণের প্রতি জোর দেয়ার বিষয়টি বলা যেতে পারে। বাংলাদেশে মতপ্রকাশের ঘাটতির কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ওয়াশিংটনের পশ্চিমা মিত্ররা। মানবাধিকারের কথা বলে গত বছরের শেষ দিকে এলিট ফোর্স র‌্যাব এবং এ বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কয়েক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

আপাতত এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক তা চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এটি আমলে নিয়েও বলা যায়, আমাদের দেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নির্বাচন তখনই সম্ভব; যখন বিরোধী দলগুলো মাঠের রাজনীতিতে সরব উপস্থিতির মাধ্যমে নিজেদের শক্তির জানান দিতে পারবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং ইসলামপন্থীদের যে ঐক্য বিদ্যমান রয়েছে তা অক্ষুণœ থাকতে হবে। শুধু আওয়ামী বিরোধী সেক্যুলার শক্তি দিয়ে রাজনীতির ময়দানে হালে পানি পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। একইভাবে ইসলামপন্থীদের বাদ দিয়ে তা ভোটের রাজনীতিতে খুব একটা সুবিধা হবে না। এর কারণ বাম রাজনৈতিক দলগুলো জনপ্রিয়তার দিক থেকে পিছিয়ে এ বাস্তবতা মানতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনীতির বাস্তবতায় এ সত্য মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই যে, ইসলামপন্থীরা ভোটের রাজনীতিতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় কে যাবে তার প্রধান নিয়ামক শক্তি। ফলে বিএনপিসহ সেক্যুলারপন্থীদের এই উপলব্ধি থাকতে হবে এবং সেই অনুযায়ী ইসলামপন্থীদের সাথে রাজনৈতিক হিস্যা নিয়ে বোঝাপড়ায় যেতে হবে। তবেই মাঠের রাজনীতিতে বিরোধীদের গতি আসবে। সেই সাথে অবাধ নির্বাচন আদায় করা যেমন সহজ হবে, তেমনি ক্ষমতার পালাবদল হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়। শেষ কথা বলা যায়, এদেশে এমনকি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব রুখতে ও খর্ব করতে ওয়াশিংটন যেমন চায় বাংলাদেশে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, ঠিক তেমনি দেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প  বোধ হয় ক্ষমতাসীনদের হাতেও আর নেই। সঙ্গত কারণে গণতন্ত্র জোরদার করতে দেশের সব পক্ষকেই অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে আন্তরিক হতে হবে। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে দেশের ও জনগণের সার্বিক কল্যাণ।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির