post

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : সংগঠন

গাজী নজরুল ইসলাম

১৪ জুলাই ২০২৩

“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী” জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর পরিবর্তিত নাম। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী (রহ.) ১৯৪১ সালে “জামায়াতে ইসলামী হিন্দ” প্রতিষ্ঠা করে ভারতীয় উপমহাদেশে আল্লাহর আইন চালুর আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হলে যে অংশ পাকিস্তান হলো, ঐ অংশের নাম দেওয়া হলো “জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান”। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এ অংশে সংগঠনটির নাম রাখা হয় “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ”। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীনতা সংগ্রামে যথার্থ ভূমিকা না রাখার কারণ দেখিয়ে তৎকালীন সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তখন জামায়াতে ইসলামী ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক লীগের (আইডিএল) মাধ্যমে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা চালু রাখে। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর জামায়াত পুনরায় তাদের স্ব-নামে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন শুরু করে। স্বাধীন বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” স্ব-নামে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদে বেশ কয়েকবার তাদের প্রতিনিধি পাঠাতে সক্ষম হয়। অনেক স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনেও জামায়াত জনগণের সমর্থনে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখে তৃণমূল জনগণের কাছে ইসলামী আন্দোলনের আহ্বান পৌঁছাতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে।

প্রায় নব্বই ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী কুরআনের আইনে জীবন-বিধান পরিচালনাসহ সমাজ ও রাষ্ট্রে তার প্রতিফলন ঘটিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের ধারণা প্রচারে ইতোমধ্যে সফলতা লাভ করেছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সংগঠনটির ভূমিকা অগ্রগণ্য। ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ একটি সুদমুক্ত শরয়ী ভিত্তির উপর দাঁড় করানো, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে জনগণকে সেবা দান, শিক্ষা ক্ষেত্রে জ্ঞান বিজ্ঞান ও মেধা বিকাশে প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি, মেধা-মনন, চিন্তা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং জীবনধর্মী মূল্যবোধ সম্পর্কিত বিশাল সাহিত্যভাণ্ডার সৃষ্টি করে দেশের তরুণ-যুবক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চিন্তাশীল, নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন এবং স্রষ্টানুরাগী হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক মিডিয়া জগতে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগে বিশ্বব্যাপী প্রচার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন; দেশের ব্যবসায় ও বাণিজ্যে নানামুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে সৎ-নিষ্ঠাবান ও সেবাধর্মী ব্যবসায়ী বলয় সৃষ্টি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বিনির্মাণে সহযোগিতা করা, আধুনিক ক্রীড়ামোদি জনপ্রতিষ্ঠান সমূহে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিকশিত হওয়ার লক্ষ্যে সঠিক সহযোগিতা প্রদান, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, ঘূর্ণিঝড়, বন্যাপীড়িত জনগণের পুনর্বাসনে অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ইসলামী দল এবং গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করে ঐক্য তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকার মাধ্যমে দেশ-জাতি এবং রাষ্ট্র-ব্যবস্থাকে একটি কল্যাণমুখী জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার নিরলস প্রচেষ্টা চালানোর ক্ষেত্রেও জামায়াতে ইসলামী নামক দলটি অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। 

দলটি তার ইসলামী চরিত্রের মৌলিকত্বের কারণে মাঝে মাঝে ইসলাম-অজ্ঞ এবং অনভিজ্ঞ ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠীর দ্বারা সমালোচিত। এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী ইসলামবিরোধীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বারবার। এরপরেও দলটি, তার নেতা-কর্মীগণ জেল-জুলুম, নির্যাতন-নিষ্পেষণ সহ্য করেও দেশের আপামর জনগণকে সাথে নিয়ে একদল সৎ যোগ্য ও মেধাবী নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে দেশে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন কায়েমে বদ্ধপরিকর। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী কি আসলেই কুরআনের আইন চালু করতে সক্ষম হবে? হলে কোন উপায়ে এবং কতদিনে তা সম্ভব হবে? প্রশ্নটি অত্যন্ত জটিল, তাত্ত্বিক ও বাস্তবধর্মী ।

ইসলামী আন্দোলনের অতীত ইতিহাস দৃষ্টান্তে একটা জবাব হয়তো সহজেই খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। সে জবাবটা হলো, ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) যখন ১৫০০ বছর পূর্বে আরবের জাহিলিয়াতের যুগে নবুয়তপ্রাপ্তির পর মক্কায় মাত্র তেরো বছর এবং মদিনায় মাত্র দশ বছরের মধ্যে শুধু মক্কা ও মদিনায় নয় বরং সমগ্র আরব জগতের বিশাল একটি অঞ্চলে কুরআনের বিধান চালুর মাধ্যমে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সুবিচার কায়েম করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তৎকালীন জাতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোম, সিরিয়া, পারস্যের মতো বড় বড় ক্ষমতাধর আধিপত্যবাদী শক্তি থাকা সত্ত্বেও তা সম্ভব হয়েছিল। অতএব, বাংলাদেশে কেন তা সম্ভব হবে না? আবার অনেকে হয়তো বলতে পারেন, মহানবী (সা.) মহান আল্লাহর পরোক্ষ এবং জিবরাইল (আ.)-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এক অনুপম ঐশী শক্তির নিখুঁত পরিকল্পনায় তা সংঘটিত করতে পেরেছিলেন। কিন্তু মহানবী (সা.) এখন আমাদের মাঝে বেঁচে নেই, তাঁর সাহাবায়ে আজমাইনগণ সবাই চলে গেছেন। তা সত্ত্বেও কি এখনও কুরআনের রাষ্ট্র কায়েমের ঐ বাস্তবতা কি সম্ভব? এক্ষেত্রে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং মহানবীর হাদিস চর্চায় একটা তাত্ত্বিক সদুত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে- তা হলো, মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে দৃঢ়কণ্ঠে সমবেত জনমণ্ডলীকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করেছিলেন, “আমার সাথে হয়তো তোমাদের আর এমনিভাবে সাক্ষাৎ নাও হতে পারে- তবে আমি দুটি জিনিস তোমাদের কাছে রেখে গেলাম। তার একটি মহান আল্লাহ পাকের কুরআন আর অন্যটি হলো আমার সুন্নাহ। যতদিন তোমরা এ দুটি জিনিসকে অবলম্বন করে চলবে ততদিন তোমাদের কেউ ধ্বংস করতে পারবে না।” অতএব ঐ দুটি জিনিসের প্রকৃত এবং বাস্তব অবলম্বনের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশে কেন সমগ্র বিশ্বে মহান আল্লাহর আইন চালু করা সম্ভব। এক্ষেত্রে আল-কুরআন ঘোষণা করছে-“আমি আল্লাহ ওয়াদা করছি এই বলে যে, তোমরা যদি প্রকৃত ঈমানদারির সাথে নেক আমলগুলো কোরআন এবং সুন্নাহর বাস্তবায়ন করতে পার, তবে অবশ্যই আমি তোমাদের হাতে দুনিয়ার নেতৃত্ব দান করবো।”(সূরা আন নূর, ৫৫ নং আয়াত)। এ আলোচনার প্রেক্ষাপটে ধরে নেওয়া যায় যে, সতেরো কিংবা আঠারো কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ ভূখণ্ডে প্রায় সতেরো কোটি মুসলমানের বাংলাদেশে কুরআনের আইন-চালু করা সম্ভব। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যারা এ দেশে কুরআনের আইন চালু করতে চান এবং যারা এর সুফল ভোগ করতে চান তাদের কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আনা জরুরি বলে মনে করি। যথা:

এক. মুহাম্মদ (সা.) নবুয়াতপ্রাপ্তির পর তেরো বছর ধরে যখন মক্কায় কুরআনি দাওয়াত পেশ করেছিলেন তখন তিনি আল্লাহর রাসূলই ছিলেন অথচ ঐ তেরো বছরে মক্কায় কুরআনি আইনের বিধানে রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে ওঠেনি।

দুই. তৎকালীন আরব বিশ্বে বিশেষ করে মক্কায় কুরাইশদের নেতৃত্বেই সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার, খুন-খারাবি, অন্যায়, অত্যাচার, মদ-জুয়া, দমন-পীড়ন ইত্যাদি পুরোদমে চলছিল। কিন্তু ওই সময়ে মক্কায় কুরআনি কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বিধায় সামাজিক সু-বিচার ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।  

তিন. নবুয়তের প্রথম তেরো বছরে মক্কায় পবিত্র কুরআনে ইসলামের বুনিয়াদি ইবাদাত তথা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়নি। 

চার. সমাজ কলুষিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম “সুদ” তখনো কুরআনি ঘোষণায় নিষিদ্ধ হয়নি। 

পাঁচ. হারাম-হালালের ব্যবহারিক বিধানও তখন জারি করা হয়নি। 

ছয়. বিচারব্যবস্থায়ও তখন পর্যন্ত কুরআনি বিধানের ঘোষণা দেয়া হয়নি।

সাত. শিক্ষা, সাংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচারের ক্ষেত্রেও তখনো ইসলামী মূল্যবোধের মৌলিক বিধানাবলিও পেশ করা হয়নি। এসব চলছিল তৎকালীন সমাজব্যবস্থার পুরোনা নিয়ম-নীতি, রসম- রেওয়াজের ওপর ভিত্তি করেই।

মহানবী (সা.)-এর নবুয়তি জিন্দেগির সুদীর্ঘ তেরো বছর পর মদিনায় হিজরত করে তথায় প্রায় সকল জাতি গোষ্ঠীকে সমন্বয় করে “মদিনা সনদ” নামক রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত এক ঐতিহাসিক নীতিমালা (সংবিধান) তৈরি করে ভবিষ্যৎ ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের মাধ্যমে মদিনা রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে পর্যায়ক্রমে উক্ত সব রসম রেওয়াজ পরিবর্তন করে তদস্থলে কুরআনের মৌলিক নীতিমালার প্রচলন করেছিলেন। মদিনাবাসী তথা আরব জনগণ একটি সু-পরিকল্পিত এবং সুবিন্যস্ত কল্যাণকর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিগড়ে থেকে তাদের চির অসভ্য পুরনো রসম-রেওয়াজের পরিবর্তে নতুন আদর্শবাদী, নৈতিকতা সম্পন্ন জীবনবোধের আলোকে মানবধর্মী, কল্যাণধর্মী, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিজেদেরকে সহজেই সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের তুলনা প্রণিধানযোগ্য। দেশের প্রায় সতেরো কোটি মানুষ মুসলমান। তারা সকলেই এক আল্লাহতে বিশ্বাসী। আল-কুরআনে বিশ্বাসী, মহানবীর সুন্নতের রীতিনীতিতে বিশ্বাসী, এখানকার প্রায় সকল পর্যায়ের রাজনৈতিক দলসমূহের নেতা নেত্রীগণ কুরআনি জীবন বিধানে যে শান্তি ও কল্যাণ নিহিত তাতেও বিশ্বাসী। কিন্তু এদেশবাসীর যাপিত-জীবনে, সংগ্রামে-সাধনায়, কাজ-কর্মে, আচার-আচরণে, শিক্ষা-সাংস্কৃতিতে এমন কিছু রসম-রেওয়াজ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে যেগুলো ওই কুরআনি দৃষ্টিভঙ্গির পরিপন্থী। তাই এখানে বা এদেশে যারা মহানবীর রিসালাতের আলোকে কুরআনি জীবন বিধান চালু করতে বদ্ধপরিকর তাদেরকে উপরোক্ত মৌলিক বিষয়গুলো চেতনায় ধারণ করে সুষম কর্মপদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগে অধিকাংশ জনগোষ্ঠীকে আস্থায় এনে সম্মুখে অগ্রসর হতে হবে। এক্ষেত্রে আল-কুরআন ঘোষিত ফরজ-ওয়াজিব সম্পৃক্ত বন্দেগি-জীবন পালনের সাথে সাথে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সম্পর্ক স্থাপন, ইয়াতিম-দুঃখীদের সহায়তা প্রদান, মন্দ ও অশ্লীল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, কোনো ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন না করা, হালাল-হারাম এবং হক-বাতিলের কষ্টিপাথরে যাচাই করে যাপিত জীবনকে পূত-পবিত্র এবং চির সত্যের পথে পরিচালিত করতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলটি যেহেতু বাংলাদেশে আল্লাহর আইন চালু করতে চায় সেহেতু তাদের বাস্তব কর্মপদ্ধতিতেও উপরোক্ত মৌলিক বিষয়গুলোর আলোকে নিম্নলিখিত জাতীয় এজেন্ডাগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য আনা দরকার যার আলোকে জনগণ তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। যেমন: 

এক. বাংলা ভাষা আন্দোলন তথা ২১ ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশী এবং বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের চেনতায় চিরভাস্বর। ঐতিহাসিক মতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ সেখান থেকেই বপিত। মাতৃভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি এখন জাতীয় পরিমণ্ডল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক রূপ পরিগ্রহ করেছে। দিনটিকে স্মরণীয় রাখতে এদেশে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে অনেক আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালিত হয়ে থাকে যা এখন সমগ্র বিশ্বে বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের অস্থিমজ্জার সাথে একাত্ম হয়ে গেছে। যেমন শহীদ মিনারে (স্মৃতির মিনার) নগ্নপায়ে হেঁটে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো, শহীদ বেদিতে নীরবতা এবং সে উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা পালন ইত্যাদি।  এসব ব্যাপারে এদেশে ইসলামপন্থীরা হয় নিশ্চুপ, নতুবা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে শুধু কেবল আলোচনা ও দুয়ার পক্ষপাতি। বাকি প্রতিপালিত বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মের বড় একটি অংশ ইসলামপন্থীদের সে সম্পর্কিত আচরণের ব্যাপারে অপ্রচ্ছন্ন ধারণার প্রশ্নবিদ্ধ। যারা এদেশে ইসলাম কায়েম করতে চান, তাদেরকে ঐ বিষয়ে সঠিক বক্তব্য এবং মতাদর্শ (ধারণা বা Conception) তুলে ধরা জরুরি।


দুই. স্বাধীনতাযুদ্ধ 

বাংলাদেশ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এ যুদ্ধকে অনেকেই বলেন আধিপত্যবাদী হানাদার শত্রু বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ, আবার অনেকই বলেন এটা ছিল একটি ‘গৃহযুদ্ধ’। আবার ভারত বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তারা ‘ভারত-পাকিস্তান’ যুদ্ধের মাধ্যমে পাইয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার বায়ান্ন বছর পার হলেও অদ্যাবধি উক্ত প্রশ্নের কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া গেল না। অথচ বাংলাদেশে স্বাধীনতাযুদ্ধ ইতিহাস স্বীকৃত এবং বাংলাদেশীদের স্বাধীন অস্তিত্বের, সত্তার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। কেউ বলেন বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা পাকিস্তানের আধিপত্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে মুক্তিপাগল বাংলাদেশীদের জীবনপণ মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করেছে, আবার কেউ বলেন ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের অসম যন্ত্রণায় কাতর একক মহাভারত প্রতিষ্ঠার অলীক স্বপ্নে বিভোর উচ্চাভিলাষী ভারতীয় নেতৃবৃন্দের ‘নেহরু ডকট্রিন’ কার্যকারিতায় চিরশত্রু পাকিস্তানিদের শিরদাঁড়া ভেঙে দিয়ে পূর্বাংশকে  নিজেদের পাঁজরের মধ্যে লটকিয়ে রেখে সুবিধাভোগের অভিপ্রায়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। যারা বাংলাদেশের আঠারো কোটি স্বাধীন জনগোষ্ঠীর, যাপিত জীবন ধারায় কুরআনি বিধান কার্যকরী করতে চান তাদের আন্দোলনী কর্ম-দর্শন নিয়ে সাধারণ জনমনে  হয় অস্পষ্টতা না হয় মতের ভিন্নতা প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে। এ ব্যাপারে ইসলামপন্থীদের বক্তব্য সুস্পষ্ট করতে হবে, যাতে এদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রজন্ম পরিষ্কার এবং গ্রহণযোগ্য ধারণা নিয়ে নির্দ্বিধায় ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে পারে।  


তিন. জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার শত্রু 

বলা হয়ে থাকে, ইসলামপন্থীরা বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং তার নেতারা স্বাধীনতাবিরোধী, স্বাধীনতার শত্রু। তারা যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিল। তারা খুনি, জঙ্গি, ধর্ষক, লুটেরা, অগ্নিসংযোগকারী এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রতিপক্ষের দালাল। এখন এসব শুধু বক্তব্যই নয়, এদেশের সাহিত্যে, নাটকে, নভেলে, পর্দায়, এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবেও সুকৌশলে চিহ্নিত এবং পরিলিক্ষিত হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে দেশবাসী এবং নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত। তাই জামায়াতে ইসলামীর উচিৎ হচ্ছে বর্তমানে সেসব ভ্রান্ত ধারণার অপনোদনে সঠিক ও যুগোপযোগী কর্মসূচী ও কর্মপদ্ধতি গহণ করা ।

চার. স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস 

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং তৎপরবর্তী ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ঐতিহাসিক এ দিনগুলো শুধু বাংলাদেশীদের কাছে নয় বরং সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বেও স্বীকৃতি, গৃহীত এবং আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিপালিত। এ দিবসগুলো এখন বাংলাদেশীসহ বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের অস্তিত্বে, মজ্জায়, চিন্তায়-চেতনায়, ধমনীতে স্বতঃই স্মারিত এবং সু-রক্ষিত। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের এসব মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি উদযাপনের পদ্ধতিগত দিক নিয়েও ইসলামপন্থীদের বিশেষ করে কুরআন কায়েমে আন্দোলনরত সংগঠনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য, ধারণা (Canception) পেশ করা অতীব জরুরি। 


পাঁচ. বাংলা নববর্ষ 

বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমরা মুসলমান হলেও যেহেতু বাংলাদেশী ও বাংলা ভাষাভাষী, সেহেতু বাংলা সনের উৎপত্তি, প্রচলন, প্রতিষ্ঠা এবং উদযাপন আমাদের জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে বিশেষ করে বাঙালি সাংস্কৃতিতে একটি অনিবার্য-প্রতিপালিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছ। দিবসটি উদযাপনে অনেক বিজাতীয় রসম-রেওয়াজ, আচরণিক বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে ইসলামী কৃষ্টি এবং কালচারের অনুসারীরা মনে করেন। এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত সংগঠনগুলোকে দিবস পালনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য সহকারে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মাঝে মোটিভেশনাল ওয়ার্ক এবং ধারণাগত মতপার্থক্যে ঐক্যতা সৃষ্টি বর্তমান সময়ের অনিবার্য দাবি। 


ছয়. মৌলবাদ   

‘মৌলবাদ’ শব্দের সরলার্থ হলো মূল থেকে যে বাদ বা মতবাদ তৈরি তা হলো মৌলবাদ। অপর কথায় যে মতবাদের মৌলিকত্ব আছে অমৌলিক নয় অবাস্তব নয়, অসার নয় তা হলো মৌলবাদ। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন একখানি মৌলিক ঐশীগ্রন্থ (কিতাব) যা বিশ্ব স্রষ্টা মহান আল্লাহ কর্তৃক রচিত এবং প্রেরিত। এ গ্রন্থ অমৌলিক অবাস্তব অসার কোনো বিষয় নয়। এর সবই বাস্তব এবং জীবনধর্মী। দেশ-কাল-পাত্র-সমাজ-পরিবার-ব্যক্তি প্রেক্ষাপটে সার্বজনীন এবং কালজয়ী। তাই এ গ্রন্থ মৌলিক। এ গ্রন্থ যারা বিশ্বাস করেন, এ গ্রন্থের বিধিবিধান যারা আমল ও অনুসরণ করেণ তারা প্রকৃত পক্ষে মৌলবাদী। কিন্তু বিষয় হয়েছে পাশ্চাত্যবাদীরা ইসলামকে সেকেলে, অচল, এবং অপ্রগতিশীল বানাতে যেয়ে আল-কুরআনের অনুসারীদের মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে মুসলমানদের অগ্রযাত্রা তথা বিশ্বে কুরআন কায়েমের আন্দোলনকে রুখে দিতে চায়। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীও সেই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। যদিও বাংলায় মৌলবাদ এবং ইংরেজিতে ফান্ডামেন্টালিস্ট (Fundamentalist) শব্দটি কিংবা ফান্ডামেন্টালিজম (Fundamentalist) শব্দটি রোমান গির্জার পাদ্রি-পুরোহিত এবং তাদের সমর্থকবৃন্দ ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্টান্টদের সাক্ষাৎ বিরোধের সৃষ্ট ফসল- যে দ্বন্দ্ব-বিরোধের স্রোতধারা আজও চলমান এবং যা ঐতিহাসিক সত্য। যে সত্যটি বিশ্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয়-গৃহযুদ্ধের অন্যতম অনলকুণ্ড ছিল। অথচ আজ তারা অতি সুকৌশলে, বৃদ্ধিবৃত্তিক পারঙ্গমতা সহকারে তাদের সৃষ্ট মৌলবাদের অনলকুণ্ডটি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ঘাড়ে চাপিয়ে, এটাকে একটা অস্পৃশ্য গালি হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামে বিশ্বাসী মুসলিম যুব-মানসকে বিভ্রান্তির  বেড়াজালে অক্টোপাসের মতো আটকে ফেলতে চায়, মূলত তারা তা করে ফেলেছেও। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম কাফেলা জামায়াতে ইসলামীও সেই মৌলবাদী ভূতের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তাই জামায়াতে ইসলামীকে তথাকথিত এ মৌলবাদী ভূতকে সুস্পষ্ট চিহ্নিত করে দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষ, যুবমানস এবং ইসলামে অজ্ঞ-অন্ধ এবং বে-আকলদের কাছে তুলে ধরে পরিচ্ছন্ন ধারণা সৃষ্টি করতে হবে।


সাত. নারী নেতৃত্ব 

ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম বলে অনেক ইসলামী নেতা ও আলিম-ওলামা বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন, ওয়াজের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করেছেন। জনগণ বলছে- ইসলামী নেতারা নারী নেতৃত্ব হারাম বলে, আবার জামায়াতে ইসলামী নারী নেতৃত্বের পেছনে গাঁটছড়া বেঁধে ইসলাম কায়েম করতে চায়; বিষয়টা কী? আসলে বিষয়টি প্রশ্নবোধক। বর্তমানে বাংলাদেশে মহাজোটের নেত্রী মহিলা আবার ২০ দলের প্রধান নেত্রীও মহিলা। ২০ দলের মধ্যে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, আরো অনেক দেশবরেণ্য ধর্মীয় এবং ইসলামী নেতা ও সংগঠনসমূহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এবং স্ব স্ব দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্দোলনরত। এ ক্ষেত্রে এদেশে যারা ইসলাম কায়েম করতে চায় বা চান তাদেরকে নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। এবং জামায়াতে ইসলামীকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে


আট. কুরআনি দাওয়াত প্রদানে কৌশলী ভূমিকা পালন :

মহান আল্লাহ পাক আল-কুরআনে এরশাদ করেছেন- “তোমাদের প্রতিপালকের রাহে মানুষের কাছে দাওয়াত পেশ কারো জ্ঞান বিবেচনা সহকারে এবং উত্তম পন্থায়।” (সূরা আন-নাহল : ১২৫)। এখানে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের কাছে হিকমত অর্থাৎ জ্ঞান-বিবেক-বিবেচনাবোধ নিয়ে কৌশলী ভূমিকা সহকারে উত্তম পন্থায় আহ্বান জানাতে বলেছেন, কথামালা পেশ করতে বলেছেন, উক্তি করতে বলেছেন-বক্তব্য দিতে বলেছেন। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের কাছে ইসলামী দাওয়াত পেশ করতে চায়, কুরআনি শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাতে চায়, অথচ এদেশের প্রায় ১৭ কোটি মুসলমান নমধারী ব্যক্তি (নারী-পুরুষ) আছেন যারা মুসলিম বলেই পরিচিত এর বাহিরে তাদের মুসলমানিত্বের আর কোনো কার্যক্রম নেই। মুসলিম নামধারী কিন্তু ইসলামী চেতনাবোধে উজ্জিবিত না। মুসলিম বা মুসলমান, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া হয় না। এরা মুসলমান অথচ কালেমার মূল অর্থ জানা নেই। মুসলমান, অথচ জাকাত হজ, রোজা সম্পর্কে অন্তর্নিহিত ধারণা নেই। মুসলমান অথচ কুরআনি জীবনবিধান (Code of Life) রাষ্ট্রীয় জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। আর ইসলামপন্থীদেও এমন একদল জনগোষ্ঠীর কাছেই কুরআনি দাওয়াত পেশ করতে হবে। তাইতো মহান আল্লাহ হেকমত-জ্ঞান বিবেক-বুদ্ধিমত্তা সহকারে উত্তমপন্থায় দাওয়াত পেশ করতে বলেছেন। যারা বাংলাদেশে কুরআন কায়েমের অগ্রসেনানী তাদের ধীর মস্তিষ্কে উক্ত বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা গবেষণা করা দরকার বলে মনে করি ।


নয়. বিদগ্ধ বিশ্লেষকদের চিন্তামতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব মূলত চার ভাগে বিভক্ত :

ক. তথাকথিত প্রগতিশীলতার তকমা জড়ানো পাশ্চত্য বিশ্ব, 

খ. ধর্মনিরপেক্ষতা এবং তথাকথিত মানবতাবাদী বিশ্ব,

গ. উগ্র ধর্মান্ধতা জড়িত পৌত্তলিক এবং ইয়াহুদিবাদী বিশ্ব,

ঘ. ইসলামী তথা মুসলিম বিশ্ব।

- প্রথমত: তথাকথিত প্রগতিশীল বিশ্ব বলতে বুঝায় পাশ্চাত্য সভ্যতার ধ্বজাধারী আমেরিকা এবং ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রসমূহ। 

- দ্বিতীয়ত: ধর্মনিরপেক্ষতা এবং তথাকথিত মানবতাবাদীরাও ঐ একই বলয়ের অন্তর্ভুক্ত।

- তৃতীয়ত: উগ্র ধর্মান্ধতায় জড়িত পৌত্তলিক বিশ্ব হলো উপমহাদেশের মহাভারতীয় জনগোষ্ঠী এবং ইয়াহুদিবাদী রাষ্ট্র।

- চতুর্থত: ইসলামী বিশ্ব বলতে বুঝায় প্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রসমূহ। 


জামায়াতে ইসলামীকে তার সংগঠন-আন্দোলনের পথ-পরিক্রমায় সফল একটি ভবিষ্যৎ গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে উপরোক্ত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কৌশলী কর্মপন্থা নির্ধারণ করে পথের বাঁকে বাঁকে ডানে-বামে-সামনে-পিছনে-উপরে-নিচে সজাগ ও সুতীক্ষè দৃষ্টি রেখে দেশ-জাতি-রাষ্ট্র, ধর্ম-বর্ণ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের  কুটিল এবং জটিল পলিসি এবং ডিপ্লোম্যাসি, যুদ্ধ এবং শান্তি, আণবিক এবং পারমাণবিক, ঐক্য এবং অনৈক্য, বিভেদ এবং বিচ্ছেদ সকল বিষয়ে অনুসন্ধানী গবেষণার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত মানের কর্মপত্র তৈরি করে সে অনুপাতে অতি সাবধানে ত্যাগ এবং তিতিক্ষার অনল-বারুদ হজম করে ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে সামনে এগোতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যেহেতু মাতৃভূমি বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষকে সম্পৃক্ত করে এ দেশে ইসলামী আন্দোলনের কামিয়াবিতে কুরআনি আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেহেতু আন্দোলন-সংগ্রামে অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ গতিধারায় আপামর জনগণ তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে উক্ত বিষয়সমূহের কুরআনিক, বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিক চিন্তাধারা পেশের মাধ্যমে সকলের মনোজগতে একটি আলোকিত নৈতিক বিপ্লব সৃষ্টিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখা এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। 

এ অপরিহার্য দাবির সুনির্দিষ্ট, সুচিন্তিত এবং যুগোপযোগী বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার সফল প্রায়োগিক কর্মতৎপরতাই নির্ধারণ করতে পারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংগঠন-আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ। 

লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট ও

সাবেক সংসদ সদস্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির