সর্বশেষঃ
post

যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই : মানবতার মুক্তি চাই

জালাল উদ্দিন ওমর

০৭ জুন ২০২২

চারদিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উন্নতি সত্ত্বেও এখন মানুষের জীবনে শান্তি নাই। শান্তিময় জীবন যাপনের জন্য মানুষের মাঝে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য এবং মানবিকতা প্রয়োজন। তাহলে সমাজে, রাষ্ট্রে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। ফলে মানুষের জীবন সুখের এবং শান্তিময় হবে। মানুষ নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাতে পারবে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতা সত্ত্বেও বিশ্ব থেকে যুদ্ধ নির্মূল হয়নি এবং বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। সব সময় এই পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে অতীতেও যুদ্ধ চলেছে এবং বর্তমানেও যুদ্ধ চলছে। আর এই যুদ্ধে মারা গেছে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ এবং এখনো প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজারো আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। যুদ্ধের কারণে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে হাজারো মানুষ। এই যুদ্ধ মানবতার জন্য কখনো কোনো ধরনের কল্যাণ বয়ে আনেনি এবং ভবিষ্যতেও আনবে না। যুদ্ধ মানে মানুষের জীবনে কেবল দুঃখ, কষ্ট আর ধ্বংস। তাই আমরা এইসব অর্থহীন যুদ্ধের চির অবসান চাই। আমরা চাই যুদ্ধ নামক এই ধ্বংসযজ্ঞ পৃথিবী থেকে চিরদিনের জন্য দূর হয়ে যাক। আর এই যুদ্ধ বন্ধ হলেই কেবল পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে এবং মানবতা মুক্তি পাবে। আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। আমরা মানবতার মুক্তি চাই।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ইতোমধ্যেই মারা গেছে কয়েক হাজার মানুষ এবং প্রতিনিয়তই মারা যাচ্ছে। তারা পাশাপাশি দুটি দেশ। ইউক্রেন এক সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেন স্বাধীনতা অর্জন করে। দেশ দুটির মাঝে রয়েছে দীর্ঘ এক সীমান্ত। দুটি দেশই আকারে আয়তনে অনেক বড়। ন্যাটোতে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের মতবিরোধ চলছে। চলমান এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া গত ২৪ শে ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে এবং সেই থেকেই দেশ দুটির মাঝে যুদ্ধ চলছে। ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের কয়েকটি শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রায় দশ লাখ মানুষ ইতোমধ্যেই দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেছেন এবং তারা এখন শরণার্থীর জীবন যাপন করছে। ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে রাশিয়ারও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অনেক লোকজনও এই যুদ্ধে নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছে। বরাবরের মতোই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্ব আবারো দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার পক্ষের রাষ্ট্রগুলো এই যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের রাষ্ট্রগুলো ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। অপরদিকে রাশিয়ার পক্ষের রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এসব অবরোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিভক্তির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনৈতিকভাবেও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রীর দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বিশ্বে সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক সঙ্কট এবং নতুন এক অস্থিরতা। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে নিয়োজিত জাতিসংঘ বরাবরের মতই এই যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই যুদ্ধের অবসান চাই। মনে রাখতে হবে এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে কারো জন্যই কোনো ধরনের কল্যাণ বয়ে আনবে না।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যকার এই যুদ্ধ বিশ্বে চলমান যুদ্ধসমূহের সাথে আরেকটি নতুন সংযোজন। অর্থাৎ পৃথিবীতে আরো একটি নতুন যুদ্ধ শুরু হলো। একটি যুদ্ধ শেষ না হতেই পৃথিবীতে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। পৃথিবীতে কোনো না কোনো সময় কোনো না কোনো দেশের মাঝে যুদ্ধ লেগেছে এবং এসব যুদ্ধ দীর্ঘদিন অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশসমূহের মাঝে একাধিক যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ চলছে লিবিয়ায়, যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায় এবং যুদ্ধ চলছে ইয়েমেনে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ তিনটি দেশে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে যুদ্ধে এসব দেশ আজ ধ্বংসের শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ এসব দেশ এক সময় অনেক উন্নত এবং শান্ত ছিল। এসব দেশ আজ বহু ভাগে বিভক্ত এবং এক এক এলাকায় চলছে এক এক গোত্রের শাসন। এসব দেশে দেশব্যাপী একক সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং এসব দেশের সার্বভৌমত্ব আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব দেশের সাধারণ জনগণের জীবনে আজ কষ্টের শেষ নেই। যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে বৃহৎ শক্তিসমূহ এসব যুদ্ধের বিবদমান পক্ষগুলোর পক্ষ অবলম্বন করেছে এবং তাদেরকে সহযোগিতা করে এসব যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে। দীর্ঘদিন যুদ্ধ চলেছে ইরাকে এবং আফগানিস্তানে। ইরাকে প্রায় এক দশক এবং আফগানিস্তানে প্রায় চার দশক ধরে যুদ্ধ চলেছে। এ দুটি দেশে কয়েক লক্ষ মানুষ মারা গেছে। আফগানিস্তানের প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। বর্তমানে এ দুটি দেশে যুদ্ধ বন্ধ হলেও দেশ দুটিতে পুরোপুরি ভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা যুদ্ধে এসব দেশ কেবল ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে মানুষের বাড়িঘর, ধ্বংস হয়েছে অফিস আদালতসহ বিভিন্ন অবকাঠামো এবং ধ্বংস হয়েছে সব কিছু। নিহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে কয়েক লক্ষ মানুষ। যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচার তাগিদে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে ভিন দেশে উদ্বাস্তুর জীবন যাপন করছে অগণিত মানুষ। যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে মানুষ বাড়িঘর, অফিস আদালত, ব্যবসা বাণিজ্য, জমি স¤পত্তি সবই ছেড়ে ভিন দেশের পাড়ি জমায় নিঃস্ব অবস্থায়। যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় শিশু, মহিলা এবং বয়স্ক জনগণ। যুদ্ধের কারণে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখাও বন্ধ হয়ে যায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে উদ্বাস্তুর সংখ্যা এখন প্রায় ছয় কোটি এবং এদের পরিচয় এখন শরণার্থী। এসবই হচ্ছে যুদ্ধের উপহার এবং অর্জন। মূলতপক্ষে যুদ্ধে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই অর্জন হয় না। যুদ্ধের ফলে কোনো একটি স্থাপনা যখন ধ্বংস হয় তখন তার পুরোটাই ক্ষতি। আবার এই স্থাপনা ধ্বংসে যে অস্ত্র ব্যবহৃত হয় তাও ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে এটাও ক্ষতি। এসব যুদ্ধে যে সব অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে তার মূল্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। অথচ এই সব অর্থ অস্ত্র এবং যুদ্ধের পিছনে ব্যয় না করে যদি মানবতার কল্যাণে ব্যবহৃত হতো, তাহলে পৃথিবী থেকে ক্ষুধা, দরিদ্রতা এবং অশিক্ষা বহু আগেই দূর হয়ে যেত। ফলে পৃথিবীজুড়ে শান্তি বিরাজ করত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ বিশ্বকে যুদ্ধমুক্ত করার প্রত্যয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠাই ছিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যেই জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৭৬ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বছর জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘে সম্মেলন হয় এবং এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাদের প্রদত্ত বক্তৃতায় বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ বন্ধ হয় না এবং শান্তিও প্রতিষ্ঠা হয় না। দুর্ভাগ্যজনক হলে সত্য, জাতিসংঘ বিভিন্ন দেশের মাঝে বিদ্যমান যুদ্ধ বন্ধে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধ জাতিসংঘ বন্ধ করতে পারেনি। কয়েক দশক ধরে চলে আসা ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্ব বন্ধেও জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিনের হাজারো মানুষ বছরের পর বছর ধরে উদ্বাস্তু শিবিরে বসবাস করছেন। এদের অনেকেই উদ্বাস্তু শিবিরেই জন্মগ্রহণ করেছেন, উদ্বাস্তু শিবিরেই বড় হয়েছেন এবং উদ্বাস্তু শিবিরেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারের নিজভূমিতে প্রত্যাবাসনেও জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে। এসব রোহিঙ্গা আজ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বিরাট এক সমস্যা সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গারা আজ বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে, যার আশু সমাধান খুবই জরুরি। বিভিন্ন যুদ্ধ যেমন বন্ধ করতে পারেনি, তেমনি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানও জাতিসংঘ করতে পারেনি। কারণ বৃহৎ শক্তিবর্গ কখনোই নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেনি এবং জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স হচ্ছে জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী পাঁচটি দেশ। আর এসব দেশ তাদের ইচ্ছাবিরোধী সকল প্রস্তাবকে ভেটো ক্ষমতার মাধ্যমে বরাবরই নাকচ করে দিয়েছে। ফলে কোনো এলাকায় যুদ্ধ শুরু হলে তা বন্ধের জন্য জাতিসংঘ কখনোই সর্বসম্মতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধ বন্ধ না হয়ে তা দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ বেড়েছে। যারা নিজেদের ক্ষমতা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধির জন্য যুদ্ধ করছেন, মানুষকে হত্যা করছেন এবং সবকিছু ধ্বংস করছেন তাদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা কেউই চিরদিন এই পৃথিবীতে বাঁচবেন না। আপনাদের এই ক্ষমতা এবং সাম্রাজ্যও আপনি চিরদিন ভোগ করতে পারবেন না। তাই মানুষে মানুষে যুদ্ধ এবং হানাহানি চিরতরে বন্ধ করুন। আর গড়ে তুলুন ভালোবাসার পৃথিবী, যেখানে আপনি আমি সকলেই সুখে শান্তিতে বসবাস করবো।

এ অবস্থায় মানবজাতির শান্তির স্বার্থেই আজ এই পৃথিবীকে যুদ্ধমুক্ত করতে হবে। বিদ্যমান সকল যুদ্ধকে তাই এখনই বন্ধ করতে হবে। তার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসলে কিন্তু যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। যা সত্য তা মানতে হবে এবং অপরের যৌক্তিক দাবিকে গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে এই পৃথিবীতে প্রায় ১৯৫টি স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে, যারা সবাই জাতিসংঘের সদস্য। এসব রাষ্ট্রসমূহের সবার আর্থসামাজিক অবস্থান সমান নয়। কেউ অনেক বড় এবং অধিক শক্তিশালী, আবার কেউ একেবারেই ছোট এবং দুর্বল। কোনটা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী রাষ্ট্র। আবার কোনটা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে একেবারেই দুর্বল রাষ্ট্র। কিন্তু সকল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে এবং এর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। একইভাবে সকল দেশের সকল মানুষেরই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। মানুষের সার্বজনীন এই অধিকার জাতিসংঘ কতৃক স্বীকৃত। কিন্তু পাঁচটি বৃহৎ দেশের ভেটো ক্ষমতা জাতিসংঘের সার্বজনীন এই মানবাধিকারকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তাই বিশ্বব্যাপী শান্তির লক্ষ্যে জাতিসংঘে বিদ্যমান এসব ভেটো ক্ষমতা বিলুপ্ত করতে হবে। এ জন্য জাতিসংঘের সংস্কার এবং সংশোধন প্রয়োজন। আইনের দৃষ্টিতে সবার অধিকার সমান এবং তা আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহের মাঝে সমঝোতা এবং ঐক্য প্রয়োজন। কোনো একটি ইস্যুতে বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহ যদি বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে তাহলে সেখানে কখনোই সমাধান আসবে না। ফলে শান্তিও প্রতিষ্ঠা হবে না। আজ আধিপত্য বিস্তারের জন্য যুদ্ধ নয় বরং শান্তিপ্রতিষ্ঠার জন্যই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের এই যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করতে হবে। আজ যুদ্ধ করতে হবে ক্ষুধা, দরিদ্রতা, অশিক্ষা এবং রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে। মারণাস্ত্র না বানিয়ে বরং এসব ধ্বংস করতে হবে। পৃথিবীর শতকোটি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অস্ত্র নির্মাণে অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ আজ এসব মানুষের জীবন মানোন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ যে সব মানুষ শরণার্থী হিসাবে বিভিন্ন উদ্বাস্তু শিবিরে বসবাস করছে তাদেরকে নিজ নিজ দেশের নিজ বাসভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে হবে। মানবিকতাকে ছড়িয়ে দিতে হবে সবখানে। রোগব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। পৃথিবীর বিরাট এলাকার মানুষ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্নভাবে ক্ষতির মুখোমুখি। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে সত্যিকারের মানবিকতা। সুতরাং আসুন এই পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল যুদ্ধকে আজ বন্ধ করি এবং এর মাধ্যমে এসব দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি। মানুষকে মারার জন্য আর কোনো অস্ত্রের ব্যবহার নয়। মানুষের মাঝে আর কোন হিংসাবিদ্বেষ নয়। জাগিয়ে তুলি ভালোবাসা এবং মানবিকতার পরিবেশ। সকল মানুষের জন্য নিশ্চিত এবং শান্তিতে বসবাসের আবাসস্থল হিসেবে আসুন আমরা এই পৃথিবীকে গড়ে তুলি।

লেখক : প্রকৌশলী এবং উন্নয়নগবেষক

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির