সর্বশেষঃ
post

রাসূল সা. এর দ্বীন প্রসারের পদ্ধতি

রাশেদুল ইসলাম

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

স্ব-প্রশংসিত রাজাধিরাজ মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেওয়া এবং তাঁর প্রতি বিশ্ববাসীর আনুগত্য প্রকাশ করা আবশ্যকীয় কর্তব্য। এই কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করতে এবং মানুষের চিন্তা-চেতনার জগৎকে সমৃদ্ধ করতে আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসকল আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ) পৃথিবীতে দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ  সর্বশ্রেষ্ঠ। যাকে রহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে আমরা সবাই জানি। তিনি তাঁর নবুয়তি জিন্দেগির শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে তিনটি কাজ সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে করেছেন, উম্মতকে করতে বলেছেন, তা হলো- আল্লাহর পথের দিকে মানুষকে আহবান করা, নেক আমল করা এবং দ্বীনের উপর ঈমানদারিত্বের সাথে অবিচল থাকা।

বস্তুত মহান রাব্বুল আলামিন এই তিনটি কাজকে সকল ভালো কাজ ও কথার মধ্যে সেরা সাব্যস্ত করেছেন। সূরা ফুসসিলাতের ৩৩ নং আয়াতে তার অমিয় ঘোষণা রয়েছে। আল্লাহ বলেন- সেই ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হবে যে আল্লাহর দিকে ডাকলো, সৎ কাজ করলো এবং ঘোষণা করলো আমি মুসলমান।

আমরা যারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে দাবি করছি এবং দ্বীনের পথে অটল-অবিচল থাকার নিমিত্তে শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কাজ করে চলেছি, তাদের জন্য এই তিনটি কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রথমে নিজে এই তিনটি কাজের বাস্তবায়নকারী হতে হবে এবং দ্বিতীয়ত বাস্তবায়নের পথের আশপাশে থাকা মানুষদের মধ্যে যারা এই দৃষ্টিভঙ্গি লালন করছেন না, বা করতে পারছেন না, কিংবা করতে পারার মতো কোনো যৌক্তিক পন্থা ও পদ্ধতির দিশা পাননি, তাদের জন্য মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে- সঠিক পদ্ধতি জেনে উক্ত ব্যক্তিদের গাইড করা।

যৌক্তিক-সঠিক পন্থা-পদ্ধতি সম্পর্কে সবিস্তারে জানার জন্য এই পৃথিবীতে আমাদের জন্য একমাত্র মডেল হিসেবে মহান আল্লাহ মনোনীত রাসূলুল্লাহ -এর জীবনী রয়েছে। মহান আল্লাহর প্রতি একজন আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তির সবচেয়ে বড়ো এবং ব্যাপক কর্তব্য হচ্ছে, রাসূলে আকরাম -এর জীবন থেকে তা জেনে নিয়ে কাজে নেমে পড়া।

রাসূল  তাঁর দাওয়াতি জিন্দেগিতে কিছু সুনির্দিষ্ট কাজ করেছেন, সেসব বিষয় সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। তা হলো-

দাঈর জ্ঞানগত সমৃদ্ধি

মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর উপর পূর্ণ আস্থাশীল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে একজন দাঈর মনে কোনো প্রকার কনফিউশন থাকলে তার পক্ষে হক আদায় করে দাওয়াতি কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ, মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রধান নির্দেশ এভাবেই এসেছে যে, এক ও অদ্বিতীয় মহান আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে মেনে নিয়ে পথ চলতে হবে।

অতঃপর একজন দাঈকে মহান আল্লাহর উলুহিয়্যাত এবং তার স্বরূপ কতটা বিস্তৃত-ব্যাপৃত, তাঁকে ইলাহ হিসেবে না মানার বিপরীতের সকল মত-পথ যে মিথ্যা-অসার, সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে হয়।

জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে ঘটমান কাজের জন্য নির্ধারিত কিছু পন্থা রয়েছে। সে সম্পর্কে অসচেতন হওয়ার সুযোগ নেই। এই দিকগুলো নিয়ে জীবনের প্রাথমিক অবসানের পর পুনরুত্থান হবে এবং সবশেষে হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে একমাত্র আল্লাহর ফায়সালা মেনে নিতে প্রত্যেক জীব বাধ্য, এ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা।

সুইটেবল এলাকা নির্ধারণ

মক্কা হলো পৃথিবীর শুরু থেকে মানুষের কেন্দ্রবিন্দু। যাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং উন্নত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত ছিলো। পরবর্তীতে যেখানে যেখানে এই দিকগুলোর অধিকাংশ উপস্থিত ছিলো, সেখানেই দাওয়াত সম্প্রসারণের জন্য সাহাবাদের প্রেরণ করেছেন। তায়েফ, হাবশা, মদিনা তার অনন্য নজির। এবং পরবর্তীতে ইসলামের সম্প্রসারণ তালিকায় রোম-পারস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ক্ষেত্র স্থান পেয়েছে। আজ এতদিন পরেও যদি আমরা রাসূল -এর দাওয়াতি এলাকা বাছাইয়ের বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই- ভৌগোলিক অবস্থা, রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় সেরা, অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক দিক থেকে উন্নত এলাকাকেই তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় বেছে নিয়েছিলেন।

সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, যাকে কেন্দ্র করে বুদ্ধিমান মানুষের সমাগম বেশি হয়, সেই স্থান বেছে নিয়েছিলেন রাসূল  এবং তার সঙ্গী-সাথীরা। এই বিষয়টি ইতঃপূর্বের আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ) এবং তাদের অনুসারীদের দিকে তাকালেও দেখা যায়। আজকের বিশ্বের যত গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে, হোক তা বাণিজ্যিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা শিক্ষার; প্রায় সবই তাঁরা বেছে নিয়েছেন বা তৈরি করেছেন। দায়ীদের এই বিষটি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করা কর্তব্য।

ব্যক্তি সিলেকশন

যাদের জন্য এই পৃথিবীতে সবসময় সবচেয়ে বেশি অশান্তির ঘটনা ঘটেছে, মানুষ সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে পড়েছে, তারা হলো নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আর এর বিপরীতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাই আল্লাহর পথ অনুসরণ করার কারণে সবচেয়ে বেশি শান্তির পরিবেশ কায়েম করতে পেরেছেন। আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং তাঁদের একনিষ্ঠ সঙ্গী-সাথীরা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

আর তাই আমরা এ-ও দেখতে পাই যে, আল্লাহর নির্দেশে আম্বিয়ায়ে কেরাম ও তাঁদের একান্ত অনুসারী সাথীগণ সমাজের নেতৃস্থানীয়দের মাঝেই সর্বপ্রথম কাজ করেছেন। মুসা (আ) ফেরআউনের কাছে দাওয়াত দিয়েছেন, ইউসুফ (আ) মিসরের রাজার কাছে, ইবরাহিম (আ) তার পিতার কাছে এবং আমাদের প্রিয় রাসূল  তাঁর নিজ বংশের এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ বংশের প্রধান প্রধান ব্যক্তিদের কাছে গেছেন প্রথমে।

এ কথা বুঝতে আর বাকি নেই যে, সমাজের যারা ম্যাটারফ্যাক্ট ব্যক্তি, যারা রোল প্লে করার জন্য উপযুক্ত, মেধাবী, বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান, যারা লোকদের নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা রাখেন, এরকম ব্যক্তিরা ইসলাম ধারণ করলে তাঁদের দ্বারা কাজ বেশি আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব।

সিলেক্টেড ব্যক্তিদের সম্মানের সাথে সম্বোধন এবং সম্পর্ক বিল্ড-আপ

যেহেতু আমার টার্গেট সিলেক্টেড ব্যক্তিকে দ্বীনের পথে নিয়ে আসা, সেহেতু তার বর্তমান মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন থেকে সম্বোধন করাটা জরুরি। মানুষ সাধারণত কথার দ্বারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কষ্ট পায় বা কষ্ট নেয়। আর কোনো ব্যক্তির আত্মমর্যাদা, বংশ মর্যাদা, দীর্ঘদিনের লালিত কোনো ধ্যান-ধারণা উক্ত ব্যক্তির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। তা খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে খেয়াল রাখা আবশ্যক।

এক্ষেত্রে কুরআনের বর্ণনাগুলো খুবই উচ্চমানের। যুগে যুগে আম্বিয়ায়ে কেরামগণ এবং রাসূল  তাঁদের দাওয়াতি জিন্দেগিতে যখন কোনো কাফির বা মুশরিকের সাথে আল্লাহর দিকে আহবান মূলক কথা বলতেন, তখন যে আয়াতগুলো উপস্থাপন করেছেন, তার সম্বোধনগুলো খুবই সম্মানের এবং সতর্কতাসুলভ। যেমন, হে আমার জাতির লোকেরা, হে আমার ভাইসব, হে মানুষ, হে আহলে কিতাবের অনুসারীরা, হে ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকেরা, হে নাসারা, হে অমুকের পিতা (মানুষ সাধারণত নিজ সন্তানের নাম উল্লেখ করে সম্বোধন করাকে খুব পছন্দ করে) ইত্যাদি।

এককথায় যে পর্যন্ত টার্গেটেড ব্যক্তি তার নিজের ধ্যান-ধারণা যাই থাকুক না কেন, দাওয়াত প্রচারকারী ব্যক্তির কথা শুনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত নবী-রাসূলগণ সুন্দর সম্বোধন অব্যাহত রেখেছেন।

দ্বিতীয়ত, টার্গেটেড ব্যক্তিদের সাথে পূর্ব থেকে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমেই কথা বলা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। মূসা (আ) ফেরআউনের ঘরে লালিত পালিত হয়ে ভালোবাসার পাত্র হয়েছেন আগে। ইউসুফ (আ) স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে মিসরের রাজার কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছিলেন আগে। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ  সবার আগে আল-আমিন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন এবং তা সবচেয়ে শত্রুর কাছেও। যার কারণে শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অনেক কাজে তারা তাঁর সাথে সম্পর্ক রাখতো।

স্পেসিফিক মূল কথা বলা এবং

তার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা

‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এই অমোঘ সত্য কথাটি স্বীকার করা এবং তার উপর আস্থাশীল হওয়া ছাড়া কোনো আদম সন্তান নিস্তার পাবে না কিংবা বিকল্প কোনো পথ চূড়ান্ত পথ নয়। এই বিষয়টির মেসেজ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো কাটছাঁট করার সুযোগ নেই। কারণ এটিই আসল পথ পাওয়ার প্রধান অবলম্বন।

দ্বিতীয়ত মানুষকে এই পৃথিবীতে কেন পাঠানো হয়েছে, তা সম্পর্কে আল্লাহর নির্ধারিত নির্দেশ ও নীতি-পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তার পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে উদাসীন থাকতে চায় এবং এ সম্পর্কে জানে না। ঈমান আনয়নকারীর প্রতি হক হচ্ছে, ঈমানের আরকান যা সে জেনেছে তা দ্রুত অপরের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

অতঃপর এই সত্যবাণী পৌঁছে দেওয়ার কাজটি ধারাবাহিকভাবে করতে থাকা। শত অপবাদ, গালাগাল, জুলুম নির্যাতন সয়েও প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ  তাঁর দাওয়াতি কাজে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন। যে তায়েফবাসীর অবর্ণনীয় নির্যাতন তিনি সয়ে গেলেন, সেই তায়েফে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বীনের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এই যে ধৈর্যধারণের অনন্য শিক্ষা, এটি আসলে দাওয়াতের পথে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য আবশ্যক কর্তব্য। ফিরআউন তার মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত মূসা (আ)কে হত্যার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করেছে, বিভিন্ন পদক্ষেপ রেখেছে, কিন্তু আল্লাহর নবী তার পদক্ষেপ থেকে এতটুকু সরে আসেননি; এটিই আমাদের জন্য শিক্ষা।

উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবসময় সচেতন থাকা

ইসলামে আত্মসমর্পণকারী একজন ব্যক্তির জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিজকে পরিপূর্ণভাবে মহান আল্লাহর কাছে সমর্পণ করা। যার পরবর্তী স্টেপ বান্দার জন্য আল্লাহর নির্ধারিত ইচ্ছাকে নিজ ইচ্ছা হিসেবে মেনে নিয়ে পথ চলা। এজন্য কে আমার দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করবে আর কে বিরোধিতা করে আমার উপর চড়াও হবে, তার দিকে তাকিয়ে সময় পার করা কিংবা নিজেকে নিষ্ক্রিয় করা উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক উদ্যোগ। সুতরাং দায়ীকে উদ্দেশ্যের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে অনন্তকালের জন্য নিজ নাজাত ও কল্যাণকে সামনে রেখে নির্ধারিত সকল কাজের মধ্যে দাওয়াতের কাজকে সবচেয়ে প্রাধান্য দিয়ে অবিরত ভূমিকা রাখতে থাকা বাঞ্ছনীয়।

কুরআনে নির্ধারিত নির্দেশের অতিরিক্ত কথা না বলা

সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন এবং আর্থসামাজিক উন্নতির সাথে সাথে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন হয়েছে। যার কারণে দাওয়াত দানকারীর মধ্যে নিত্যনতুন কলাকৌশলের জ্ঞান-সমৃদ্ধি ঘটেছে। একই সাথে টার্গেটেড ব্যক্তির ধারণ যোগ্যতা এবং গ্রহণ মানসিকতারও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু তাই বলে অতিমাত্রায় কৌশলী হতে গিয়ে মৌলিকত্ব থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।

সারকথা হচ্ছে, কুরআনের নির্ধারিত নির্দেশিত কথাকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নান্দনিকতা মাধুর্যতা অবশ্যই টার্গেটের মনে আগ্রহের দোলা তৈরি করাতে পারে। তবে কুরআনের বাইরে এবং রাসূল -এর দাওয়াতি কথার বাইরে অতিরিক্ত কথা এবং ভিন্ন কথার দ্বারা দাওয়াত দেওয়া থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি কাজ। কারণ শ্রোতাকে বিরক্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলতে আল্লাহ নির্দেশ করেননি। বরং তাকে মহান আল্লাহ এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি অনুরক্ত করা আমার কর্তব্য। 

টার্গেটেড ব্যক্তিকে দাঈ হিসেবে গড়ে তোলা

ইসলামের অনন্য নিদর্শনই হচ্ছে, তার ছায়ায় স্থান নেওয়া ব্যক্তি নিজকে ইসলামের প্রচারে আত্মনিয়োগ করাকে তার দ্বিতীয় সর্বপ্রধান কাজ হিসেবে গ্রহণ করবে (সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান কাজ সে ইতোমধ্যে করছে অর্থাৎ আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে তাঁর পথে নিজেকে পুরোপুরি সোপর্দ করার জন্য তৈরি করছে)। আর এই মহান কাজ করার জন্য টার্গেটেড ব্যক্তির আগ্রহের ধারাবাহিক অগ্রগতির সাথে সাথে তাকে দ্বীনের দাঈ হওয়ার উপযোগী জ্ঞান ও হিকমত শিক্ষা দিতে হয়। কারণ ইসলামের বড়ো একটি দিক হচ্ছে, এর তাত্ত্বিক জীবনব্যবস্থার চেয়ে প্রাকটিক্যাল দিক বৃহৎ। অর্থাৎ প্রতিটি শিক্ষার আমল জরুরি এখানে। কেউ জ্ঞান অর্জন করবে অথচ আমল করবে না, তার সুযোগ এখানে নেই। এই দিকটি খেয়াল করে টার্গেটেড ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে তৈরি করতে থাকা।

পরিশেষে দ্বীনের একজন দাঈর জন্য সবচেয়ে সহজে দাওয়াত দানের পদ্ধতি জানার জন্য সিরাতে রাসূল  সবচেয়ে সহায়ক এবং কার্যকর মাধ্যম। তিনি এই পৃথিবীতে যতজন নবী-রাসূল এসেছেন, তাদের সবার দাওয়াতের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন স্বয়ং মহান আল্লাহর নিকট থেকে। তার বড়ো অংশ আমরা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে পাই, আর আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী রাসূল -এর জীবনাদর্শ থেকে বাকিটা। সদা আপসহীন থেকে দাওয়াতের পথে কাজের দৃষ্টান্তমূলক অনন্য পদ্ধতি জানতে তাই আমাদেরকে সিরাতে রাসূল -এর কাছেই ফিরে যেতে হবে বারবার। আল্লাহ আমাদের সঠিক পদ্ধতিতে দাওয়াতি কাজ করার তাওফিক দান করুন এবং কাজগুলো কবুল করুন। আমিন।

লেখক : কেন্দ্রীয় সভাপতি

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির